User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
লেখক : নাসীমুল বারী প্রকাশক : মোঃ ফারুক হোসেন বুকস্ ফেয়ার, ৩৭/১ বাংলাবাজার, ঢাকা ফোন : ০১৭১৪৪২০০৩৫ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি, ২০১১ ISBN : 984 70158 0062 4 রিভিউ করেছেন : আবু জাবির আব্দুল্লাহ্ ঠিকানা : আজিমপুর টাওয়ার, ৩৭/৭ আজিপপুর রোড, ঢাকা- ১২০৫ ফোন :01714855257 সাহিত্য মনের সুকুসমার বৃত্তি। অনুভবের শৈলী রূপায়ণ। যুগ-যুগান্তরে সাহিত্য মানুষের মনের তৃপ্তিকে প্রণোদনা দিয়ে আসছে। সাহিত্য সমাজকে, সমাজের ইতিবাচক-নেতিবাচক দিকগুলোকে, মানুষের জীবনবোধকে কিংবা মনের অনুভবকে প্রকাশে এগিয়ে এসেছে। মন, অনুভব আর চৈতন্যের সমন্বিত প্রকাশে সাহিত্য সভ্যতার এক বিস্ময়কর উপাদান। সভ্যতার ক্যানভাসে সময়-কাল-পরিবেশ অঙ্কিত হয় সাহিত্যের বদৌলতে। চেতনার তৃতীয় দৃষ্টি মনের অনুভূতিতে যখন সক্রিয় হয়ে ওঠে, রূপকল্পের ডানা ভর করে শিল্পীত অবয়বে সাহিত্যের যে ধারায় প্রকাশিত হয়— তাকে প্রথমত কবিতা বলা চলে। বর্ণনার ঘনঘটায় অনুভূতির বিস্তৃৃত প্রকাশ গল্পে রূপ নেয়। গল্পেরই আরও বিকশিত ধারা উপন্যাস। এভাবেই হয়ত সাহিত্য এগিয়ে যায় শাখা-প্রশাখায়। তবে মনের অনুভূতির প্রকাশটাই সাহিত্য। ‘দানবের করলে ওরা’ নাসীমুল বারীর কিশোর রহস্য উপন্যাস। এ সময়ের খুব পরিচিত লেখক নন নাসীমুল বারী; কিন্তু লেখার মুন্সিয়ানায় পরিপূর্ণ লেখক— এ কথা বলতেই হবে। আলোচিত গ্রন্থ ‘দানবের করলে ওরা’ পড়লেই তা বুঝা যায়। রহস্য, ভয় আর রোমাঞ্চে ভরপুর দুর্দান্ত সাহসের এক চমৎকার গল্প গড়ে উঠেছে ‘দানবের করলে ওরা’ উপন্যাসে। লেখার গতিময়তা আর গল্পের বিন্যাস এ উপন্যাসটিকে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। উপন্যাসের শুরুটা এতই চমৎকার আর রহস্যময়তা, যা পাঠককে আটকে রাখার দুর্ণীবিত কৌশল। পাঠক আটকে থাকবে এর শেষ বাক্য পর্যন্ত। এক নজরে উপন্যাসের রহস্যময়তা, “হঠাৎ করেই খাব্বাবের জানালায় ঢিল এসে পড়ে গভীর রাতে। দুর্দান্ত সাহসী খাব্বাব পা টিপে টিপে বের হয় দেখতে কে মেরেছে। আবছা অন্ধকারে দেখে কালো লোমশ কী একটা দৌড়ে পালিয়েছে? কী ওটা - - -? পোড়াবাড়িটাও ভীষণ ভয়ঙ্কর। শত বছরের এ পোড়াবাড়ি বুনো লতাপাতায় জঙ্গলময়। এরই মাঝে ভূত-প্রেতের ভীষণ আড্ডা। খাব্বাব যাবে এ বাড়ির রহস্য বের করতে। খাব্বাবের দলে চারজন। এর মধ্যে শাফি ভীষণ ভীতু— তারপরও ওদের সব অভিযানেই থাকে সে। কিন্তু কেন? পোড়াবাড়িতেও যাবে শাফি? পোড়াবাড়িতে গিয়ে আবছা অন্ধকারে দেখে কালো বড় একটা ছায়ামূর্তি দ্রুত চলে গেল পুব দিকে। তারপর - - -? হঠাৎ শুকনো পাতা মাড়িয়ে কী একটা আসছে! মানুষ? জ্বীন-ভূত? দৈত্য-দানব? হঠাৎ একটা থাপ্পড় পড়ে খাব্বাবের মাথায়? ওমা একি! রাতের অন্ধকারে কতগুলো প্রাণী ওদের উপর আক্রমণ চালায়। ওরাও ওগুলোর সাথে লড়াই করে। আচমকা খাব্বাবরা টর্চ জ্বালায়। আলো জ্বালার সাথে সাথেই ওরা স্পষ্ট দেখে কালো লোমশে ভরা ওগুলোর শরীর। প্রথম রাতে খাব্বাব যেমনটি দেখেছে, তেমনটিই ওগুলো। মুখের দুপাটিতেই চারটি সুঁচালো দাঁত বেরিয়ে আছে। আলো দেখেই দৌড়ে পালায়। তারপরেই পাশের পুকুরে ঝুপ করে শব্দ। তবে কি ওগুলো দৌড়ে পুকুরে পালাল? কী ওসব? জলজ প্রাণী? দৈত্য-দানব? এর রহস্য যে খাব্বাবকে বের করতেই হবে। এ দানবের কবলেই পড়েছে ওরা। এসব দানব থেকে উদ্ধার পেতে এবং এর রহস্য বের করতে দুঃসাহসী অভিযানে নামে খাব্বাব। অভিযানের এক পর্যায়েই ওরা আবিষ্কার করে পোড়াবাড়ির ভেতরের এক কক্ষে ওই দানবগুলো গুমুচ্ছে। শিহরণ আর রোমাঞ্চে ভরে যায় অভিযাত্রী দলের দেহ-মন। তারপর - - -? সে অভিযানে কে জিতল?” খাব্বাব আর দানবকে নিয়ে এ অভিযান। পড়তে পড়তে খুঁজে পাওয়া যাবে কে শক্তিশালী? উপন্যাসের একটা চরিত্র শাফি। ভীতু অথচ এ রহস্যদলের সাথে থাকবেই সে। একগুঁয়েমি কাটাতে শাফিকে দিয়েই হাস্য-কৌতুকের উপস্থাপনা। শাফি নিজের ভয়কে মায়ের উপর চাপিয়ে দিয়ে বলে, ‘---যদি ওখানে ভূত-টুথ থাকে, ঘাঢ় মটকে দেয়, তখন? আমি তো আবার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তাই ভয়টা আমার জন্য নয়— আমার বাবা-মায়ের জন্য।’ হাস্যরসের উপস্থাপনায় কী মুন্সিয়ানা নাসীমুল বারীর! এমন নতুন মাত্রার কৌতুকচ্ছল আরও আছে এ উপন্যাসে। শুধু রহস্যের রোমাঞ্চই এ উপন্যাসের ধারা নয়। পুরো উপন্যাস রহস্যের টান টান উত্তেজনায় আগালেও এতে সমাজের একটি কালো অধ্যায়কে তুলে ধরা হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা চোরাকারবারিদের ষড়যন্ত্র উন্মোচনের রহস্যময়তাই এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য। কিন্তু প্রাবন্ধিক ঢং বা নীতিমূলক অতিকথনের দোষ একটুও চোখে পড়ে নি। লেখার গতি, গল্পময়তা রোমাঞ্চ-শিহরণে এগিয়েছে। রহস্যের শেষ স্তবকে এসে ঘটনা উন্মোচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পাঠক চরম রহস্য, উৎকণ্ঠা আর ভীতিকর পরিবেশে অবস্থান করে। লেখকের কৃতিত্ব এখানেই যে, শেষক্ষণে এসে রহস্য খুলে পাঠককে এক চরম অনুভ’তির রোমাঞ্চ দিয়েছেন। এতে পাঠক পরম তৃপ্তির আস্বাদ নিতে পেরেছেন। একটি দর্শন বা সমাজচিন্তার গল্পময় স্বরূপ ‘দানবের করলে ওরা’ উপন্যাসটি। গল্পের ছন্দে ছন্দে ঘটনার অগ্রসরতা লেখায় এনেছে গতি। ফলে উপন্যাসটি পাঠকতে দিতে পারবে তৃপ্তি, সমাজকে দিতে পারবে দীপ্তি। ধন্য লেখক নাসীমুল বারী। ধন্য উপন্যাস দানবের করলে ওরা। #