User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
বঙ্কিমচন্দ্রের লেখার শক্তি দিয়ে বলার কিছু নেই। আর আমার মতে বঙ্কিম যত উপন্যাস লিখেছেন তারমধ্যে এটা সেরা তিনে থাকবে। বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম জীবনের উপন্যাস গুলো ইতিহাস নির্ভর, কিন্তু এটা তেমন না। এখানে শুধুই তৎকালীন সমাজের কাহিনী বলেছেন। উপন্যাসের দুই মুল চরিত্র রোহীনি ও গোবিন্দলাল। যতক্ষণ না কৃষ্ণকান্ত উইল পরিবর্তন করে ভ্রমণের নামে লিখে দেন ততক্ষণ ভ্রমর তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিলনা। কিন্তু পরে এই ভ্রমরই হয় পাঠকদের প্রান ভোমরা। ত্রিভুজপ্রেমেরএক বিশাল উপাখ্যান এই বইটা। বিস্তারিত জানতে বইটা পড়ে ফেলুন। আমি হলপ করে বলছি আপনার সময় বা টাকা উসুল হ।
Was this review helpful to you?
or
বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনীর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস "কৃষ্ণকান্তের উইল" প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৮ সালে। তৎকালীন বাংলা সমাজকে চিত্রিত করা উপন্যাসকে প্রথমে একটি বিয়োগান্ত ত্রিভুজ প্রেমের উপাখ্যান বলে মনে হলেও এই উপন্যাসের মূলসুর কিন্তু ভিন্ন। হরিদ্রা গ্রামের একটি জমিদার পরিবারকে নিয়ে শুরু হয়েছে উপন্যাস। জমিদার কৃষ্ণকান্ত তার ভাইয়ের অবর্তমানে উইলে তার ভ্রাতুষ্পুত্র গোবিন্দলালকে সম্পত্তির অর্ধেক দান করায় তার বড় ছেলে হরিলাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। উইল লেখকের বিধবা ভ্রাতৃকণ্যা রোহিনীকে বিধবা বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে হরিলাল আসল দলিলটি জব্দ করার চেষ্টা করে। যদিও পরবর্তীতে রোহিণী হরিলাল তার বিধবা বিবাহের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দরুন উইলটি তাকে দেয় না। বিভ্রান্ত মনে বারুনী পুস্কুনির কাছে গোবিন্দলালকে দেখে রোহিনীর অনুতাপ ঘটে এবং সে গোবিন্দলালের প্রতি দুর্বল হয়ে যায়। আর সেই কারণে গভীর রাত্রে জমিদার বাড়িতে ঢুকে আসল দলিল সিন্দুকে রাখতে যায় এবং কৃষ্ণকান্তের হাতে ধরা পড়ে। কৃষ্ণকান্ত প্রথমে তাকে শাস্তি দিতে চাইলেও গোবিন্দলাল ও তার কিশোরী স্ত্রী ভ্রমরের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু বিপত্তি শুরু হয় এখান থেকেই। গোবিন্দলাল ক্রমে ক্রমে রোহিণীর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা, কিছু ভুল বোঝাবুঝি গোবিন্দলাল এবং ভ্রমরের সম্পর্ককে অনেকাংশে নষ্ট করে দেয়। গোবিন্দলাল এবং রোহিনি আরো কাছাকাছি চলে আসে। আর ভ্রমর চলে যায় আরো দূরে। পরবর্তীতে ভ্রমরের বাবা মাধবী নাথের কারসাজিতে গোবিন্দলাল আর রোহিনীর সম্পর্কের ইতি টানলেও ভ্রমর আর গোবিন্দলালের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। বরং গোবিন্দলাল কে কঠিন অনুতাপ করতে হয়েছে তার কৃতকর্মের জন্য। কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসটি নিঃসন্দেহে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি অনবদ্য সৃষ্টি। মানব মনের প্রকৃতির সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং পরিবর্তন চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে। উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র সুপুরুষ গোবিন্দলালের নৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতন এবং তার পরিণাম এবং অনুতাপের যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন তা সত্যি প্রশংসনীয়। রোহিনীর মত একটি বিতর্কিত চরিত্র থাকা সত্ত্বেও ভ্রমরের চরিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি নারী জাতিকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেছেন। এছাড়াও উপন্যাসের বাকি সকল চরিত্র ছিল যথেষ্ট সাবলীল। কোথাও কাউকে বাড়তি মনে হয়নি। এককথায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় "কৃষ্ণকান্তের উইল" নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের একটি চমৎকার উপন্যাস।
Was this review helpful to you?
or
বই: কৃষ্ণকান্তের উইল লেখক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হরিদ্রা গ্রামে এক ঘর বড় জমিদার ছিলেন। জমিদারবাবুর নাম কৃষ্ণকান্ত রায়। তার তিন পুএ ও এক কন্যা। তিনি তার ছোট ছেলেকে সম্পতির আট আনা লিখিয়া দিলেন। বাকি দুই ছেলেকে তিন আনা মেয়ে এবং স্ত্রীকে এক আনা দিলেন। এখান থেকে উপন্যাসের শুরু। উপন্যাসের মূল বিষয় উইল এবং তার সাথে রয়েছে বিধবাবিবাহ। প্রথমত হরলালের সম্পত্তির প্রতি লোভ দ্বিতীয়ত গোবিন্দলাল নিজের স্ত্রী রেখে এক বিধবার প্রেমে উন্মাদ। পুরোপুরিভাবে জানতে হলে বইটি পড়ে ফেলুন। # পাঠ প্রতিক্রিয়া : কৃষ্ণকান্তের উইল বইটি আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে। সত্যিকার অর্থে বইটি অসম্ভব ভালো লাগার মত একটি বই। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বইটি এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছন। যে একটার পর একটা চরিএ পাঠ করে খুবই আনন্দ পেয়েছি। বইটার কিছু কিছু যায়গায় বুঝতে একটু কষ্ট হয়েছে। তারপরও খুব সুন্দরভাবে বুঝতে পেরেছি। বইটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। এক কথায় অসাধারন একটি বই।
Was this review helpful to you?
or
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একক প্রয়াস এই বাংলা সাহিত্যের বাংলা উপন্যাস এর সকল অপরিনতির চিনহ মুছে ফেলে।বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর রচনাতেই প্রথম বাঙালি পাঠক রোমান্সের বর্ণ বহুল জীবনের সন্ধান লাভ করে এবং বাঙালির একঘেয়ে সামাজিক জীবনের মধ্যেও গল্প রসের স্বাদ আবিষ্কার করে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর কথা সাহিত্যের সংখ্যা বারোটি। এবং সকল কথা সাহিত্যের মধ্যে কৃষ্ণকান্তের উইল শ্রেস্টতবের দাবীদার। স্ত্রী বর্তমানে বিধবা নারীর প্রতি পুরুষের আসক্তি কাহিনির মুল উপপাদ্য। কৃষ্ণকান্তের উইলে রোহিণী এর মতো বিধবার প্রতি উচ্চবিত্ত শিক্ষিত পুরুষ স্ত্রীর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও গোবিন্দলালের রোহিণীর প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ। গোবিন্দলালের স্ত্রী ভ্রমরের অভিমান এবং স্ত্রীকে রেখে রোহিণীকে নিয়ে গোবিন্দলালের পলায়ন। ভ্রমরের পিতার নিজের কন্যার সংসার ও জীবন বাচানোর জন্য রোহিনী ও গোবিন্দলাল কে আলাদা করার কৌশল অবলম্বন। সেই কৌশলে রোহিনীর ফাঁদে পড়া। নিজের রুপের আকর্ষণ যাচাইয়ের প্রয়াস রোহিণীর। এবং গোবিন্দলালের হাতে ধরা পরার পর গোবিন্দলালের পিস্তলের গুলিতে তার মৃত্যু। গোবিন্দলাল এর ভ্রমরকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা। কিন্তু ততদিনে অপেক্ষা ও কষ্ট ও অসুস্থ ভ্রমর এর জীবনাসন। গোবিন্দলালের সন্ন্যাসগ্রহণ এবং ভ্রমরাধিক ভ্রমরে নিজেকে সমর্পণ। এই উপন্যাসের কাহিনী থেকে আমরা এতটুকু বুঝতে পারি যে এরকম পরিস্থিতে কোনো পুরন্মিলন এর সম্ভাবনা থাকেনা। সংশিলস্ট সকলেরই জীবনের ধবংস অনিবার্য ভাবে নেমে আসে। গোবিন্দলাল রোহিণীকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়নি। কিন্তু তার কাছ থেকে শর্তহীন পাতিব্রত্য দাবি করেছিল। রোহিণীর সঙ্গে বসবাস এর সময় সে অপ্রাপ্যনীয়া ভ্রমরকেই ফিরে পেতে চেয়েছে। যেমন করে একদিন ভ্রমর এর সঙ্গে বসবাস করার সময় এ রোহিণীকে কাম্না করেছিল। গোবিন্দলাল যা চেয়েছে তার মুল্য দিতে কক্ষনই প্রস্তুত থাকেনি। প্রেমের উপাখ্যান সবসময় মিলনে শেষ হয়না। ট্রাজেডি তেও শেষ হয়। কাহিনী নির্মাণে, ঘটনা বিন্যাসে , চ্রিত্রনাকনে কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর বিশিষ্ট রচনা...