User login

Sing In with your email

Email Address
Password
Forgot Password?

Not Account Yet? Create Your Free Account

Send

Recipients:
Message:

Share to your friends

Copy link:

    Our Price:

    Regular Price:

    Shipping:Tk. 50

    • Size:
    • Color:
    QTY:

    প্রিয় ,

    সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
    মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?

    Please Login to Continue!

    Our User Product Reviews

    Share your query and ideas with us!

    Customer Reviews

      By Md kamrul Hasan

      12 Jan 2025 09:29 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      ছাপোষা এক সরকারি অফিসের কর্মকর্তা আবু ইব্রাহীম। গল্পে আমরা আবু ইব্রাহীমকে তেমন স্বাচ্ছন্দময় জীবনের অধিকারী হিসেবে দেখি না। নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটাতে চাওয়া ইব্রাহীমের জীবন তেমন কাটে না। গল্প পড়ে আমরা শুরুতেই জানতে পারি আবু ইব্রাহীম মৃত। তিনি দুষ্কৃতকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তার ক্ষুদ্র জীবনের উপাখ্যান আমরা জানতে পারি তার স্ত্রী, কলিগের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে। সবটা জানার পর একটা সময় আমরা উপলব্ধি করতে পারবো যে, আবু ইব্রাহীমের জীবনটা নিছক সাদামাটা ছিলো না। আসলে তার এই জীবনের গল্পের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি অথবা বলা ভালো উপলব্ধি করতে পারি জীবন কি, আর মৃত্যুই বা কি। মৃত্যু তো সবার একদিন হবেই, সেটা নিয়ে চিন্তার কি আছে? তাই যদি হবে তাহলে, সিমা ছিয়েন নামক একজন প্রাচীন চীনা সাহিত্যিক কেনো বলেছিলেন- মানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু তার তাৎপর্য হবে থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী বা বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হাল্কা। ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পাওয়া না পাওয়া আরো আছে আশা-আকাঙ্ক্ষা, নানা পূর্ণতা ও অপূর্ণতার হিসাব নিকাশ। এই সকল কিছু নিয়েই জীবন। জীবন এতো সহজ হয় না। আবু ইব্রাহীমের জীবনও এসবে পরিপূর্ণ ছিলো। তাই তো যখন অফিস কলিগ তার কাছে জানতে চাইলো ‘আপনি কি দেবতা?’ তখন ইব্রাহীম অনেক সময় নিয়ে উত্তর দিলেন ‘না, আমি দেবতা না’। আমরা দেখি আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুটি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। যা কিনা একদম হাঁসের পালকের মতই হালকা মনে হয়। তার এই শান্ত সরল জীবন কাউকে প্রভাবিত করতে না পারলেও তার এই অতি হালকা মৃত্যুর ঘটনা ছাপ ফেলে যায় অনেকের জীবনে। এক অর্থে সকল মানুষের মাঝে। লেখক শহিদুল জহিরের লেখা অসাধারণ দার্শনিক একটি অতিদীর্ঘ গল্প এটি। যা কিনা সকল পাঠককে এক অন্যভুবনে নিয়ে যায়। চমৎকার শব্দচয়নের মাধ্যমে রচিত এই গল্প আশা করি পাঠক পড়ে আনন্দ পাবেন।

      By Tareq Aziz

      15 Aug 2022 10:43 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      গভীর জীবন বোধ একটি বই

      By Hanif Ahmed

      06 Mar 2022 10:14 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      ভালো লাগে নাই

      By Asikul islam asik

      05 Aug 2021 10:12 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      মৃত্যু অনেক অপ্রত্যাশিত এক সত্যের নাম। মানুষ টুপ করেই একদিন মরে যাওয়ার আগে প্রতিদিন বিন্দু বিন্দু করে মৃত্যু হতে থাকে তার৷ কিছু মৃত্যু খুব গুরুত্ব রাখলেও কিছু মৃত্যু হয় গুরুত্বহীন, কর্পূরের উবে যাওয়ার মতো। একজন আবু ইব্রাহীম! তার সাথে আমরা জীবন চিনবো। জীবনের দর্শন, জীবনবোধ দেখবো। জীবনের প্রতি মোড়ে মোড়ে যে কত অপ্রত্যাশিত ঘটনা দাড়িয়ে থাকে তা জানবো৷ জীবনের তুচ্ছ তুচ্ছ ঘটনাগুলো যে কখনও কখনও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় তা জানবো অপ্রত্যাশিত এই জীবনে হুটহাট নতুন অনেক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই আমরা। কখনও কখনও পরম সত্যও হুট করে মিথ্যেয় প্রমাণিত হয়। আবার মিথ্যে হয়ে যায় উপেক্ষা না করতে পারার মতো সত্য। কিছু কিছু মৃত্যু হয় পাহাড়ের মতো ভারী, আবার কিছু মৃত্যু হয় হাসের পালকের মতো হালকা। আমাদের আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুটা ছিলো হাসের পালকের মতোই হালকা৷ কিন্তু সেই মৃত্যুর গল্পটা কিংবা তার পেছনের ছোট্ট ইতিহাসটা আপনার মাঝে পাহাড়ের মতো একটা ভারী ছাপ ফেলে রেখে যাবে। নশ্বর এই ব্যস্ত জীবনে আপনাকে মৃত্যু নিয়ে ভাবাবে। অপ্রত্যাশিত জীবনের বাঁকে বাঁকে যে কত পরিবর্তন আর বৈচিত্রতা থাকে তা শেখাবে। তাই দেরী না করে পড়ে ফেলুন এই বইটি৷ শহীদুল জহির এক মুগ্ধতার নাম। সহজ সাবলীল লেখায় অল্প কথার মাঝেও অনেকটুকু ছাপ রেখে যেতে পারেন বোধহয়। মুগ্ধ হয়ে পড়েছি তার লেখা৷ আর রীতিমতো আচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম। তাকে নিয়ে এখন আরো অনেক পড়তে হবে, জানতে হবে। বইঃ- আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু লেখকঃ- শহীদুল জহির পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ- ৬৩ প্রকাশনীঃ- মাওলা ব্রাদার্স প্রথম প্রকাশঃ- ১৯৯১ পার্সোনাল রেটিংঃ- ৪.৮/৫

      By Wazedur Rahman Wazed

      03 Jul 2021 07:35 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      আবু ইব্রাহীম। ছাপোষা এক সরকারি কর্মকর্তা, স্নেহময় এক পিতা, উদাসীন এক স্বামী, প্রেমিকপুরুষ এবং সর্বোপরি ভাবুক এক মানুষ। সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত আবু ইব্রাহীম। তার নীতির কাছে হার মানে অসততা। আবার সেই অসততা থেকেই মুক্তি পেতে চায় তার নিজের জীবন। সত্য আর মিথ্যা, ভালো আর মন্দ, এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে গোটা একটা জীবন পার করে দেয় গোবেচারা ধরনের লোকটা। সাধারণ গোছের আবু ইব্রাহীমকে দেখে তাই পাঠকের মনে হয়, লোকটা কত অসুখী! উপন্যাসেও আবু ইব্রাহীম লোকটা ছিল একজন অসুখী মানুষ। আর তাই হয়তো অসুখীর প্রকট রূপ তুলে ধরতেই লেখক গল্পের শুরু করেছেন নিতান্ত সাধারণ এক মৃত্যু দিয়ে। যে মৃত্যু হাঁসের পালকের চেয়েও হালকা; যে মৃত্যুতে হয় না শোকমাতম; হয় না কোনো আহাজারি; যে মৃত্যু অসম্মানিত হয়ে নীরবে প্রস্থান করে। অথচ সেই মৃত্যুই যেন পাঠকের মনের গহীন কোণে পাহাড়ের চেয়েও ভারি রূপে চেপে বসে। সে মৃত্যু মুহূর্তেই মনে করিয়ে দেয়, জীবনের অর্থ আর তাৎপর্য। সেরকমই এক মৃত্যু দিয়ে লেখক পাঠককে শোনান মৃত্যু পূর্ববর্তী একজন অসুখী মানুষের গল্প। আবু ইব্রাহীমের অসুখী হবার পেছনে এতগুলো কারণ নিমজ্জিত যে, সুখটা কখনো টের পায়নি জীবিত মানুষটা। যৌবনে লালিত রাজনৈতিক আদর্শ অর্জনের পথ থেকে সরে আসার গ্লানি যেন আবু ইব্রাহীমের সুখের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবু ইব্রাহীমের তরুণ বয়সের ব্যর্থ প্রণয়ের বিষণ্ণতা যেন তার পত্নীপ্রেমকে ছাপিয়ে সুখ নামক বস্তুটাকে খোঁচাতে থাকে সারাক্ষণ। কিন্তু একইসঙ্গে আবু ইব্রাহীমের এও মনে হয়, সে ব্যর্থ প্রেমের গ্লানিতে তার আদতে মৃত্যু হয়নি; বরং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেশ গুছিয়ে ফেলেছে সে নিজেকে। আর তখন তার এই ব্যর্থ প্রেমের ভাবনাটা তাকে বিষণ্ণ করে ফেলে, পুনরায় সুখকে চুপসে দিয়ে। সত্যের পথে হাঁটার ক্লান্তি যেন আবু ইব্রাহীমের প্রাপ্তবয়স্ক শরীরে জীর্ণতা নিয়ে আসে। মুক্তির উপায় খুঁজে বেড়ায় সে রাস্তায় ঘুরে কিংবা অফিসের ফাইলের ভিড়ে। অথচ মুক্তি যখন আবু ইব্রাহীমের জীবনটাকে প্রসন্ন করতে আসে, তখন লোকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে, আসল মুক্তির সন্ধানে। নীতির কাছে মাথা পেতে নিলে আদর্শ বাধা দেয় আবু ইব্রাহীমকে। আদর্শকে সঙ্গী বানালে সত্ত্বাটা করে বসে বিদ্রোহ। আর তাই, জীবিত আবু ইব্রাহীম কোনোদিনই সুখের সন্ধান পায় না। অসুখী হয়েই পুরো জীবনটা পার করে দেওয়া এই মানুষটার মৃত্যুর গল্প পাঠকের কাছে অসুখকর লাগলেও নিজেকে শান্ত করতে পাঠক খুঁজে নেয় আবু ইব্রাহীমের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সুখগুলোকে। এভাবেই লেখক পাঠকের মনে আবু ইব্রাহীমকে জায়গা করে দেন। এখান থেকেই আবু ইব্রাহীমের অসুখী জীবন কেমন যেন অতি সহজের তকমা পেয়ে যায় পাঠকের কাছে। যেন আবু ইব্রাহীম অতি সহজেই সকল কিছু জয় করে নিতে পারে। স্ত্রীর কটুক্তি হজম করে নিয়ে নির্দ্বিধায় সে আকাশের চাঁদ দেখায় নিজেকে ভুলিয়ে রাখতে পারে, অতি সহজেই। মেয়ের সঙ্গে সন্ধ্যার নির্জনে গল্প করার ছলে তার প্রাক্তন প্রেমিকার কথা মনে পড়ে, অতি সহজেই। ঘরে স্ত্রী রেখেও প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে একা নির্জন কক্ষে দেখা করার বাসনা প্রকাশ করে আবু ইব্রাহীম, অতি সহজেই। কমিউনিজমে বিশ্বাসী বিপ্লবী যুবক কেমন করে যেন প্রাপ্তবয়স্ক বুর্জোয়া আবু ইব্রাহীমে পরিণত হয়, অতি সহজেই। ঢাকায় এক মুঠো জমি কিনে বাড়ি করার আশায় অফিসের টেবিলের তলে আবু ইব্রাহীমের হাত চলে যায়, অতি সহজেই। কিন্তু তার অতি সহজ জীবনযাপনটাই কঠিন হয়ে ওঠে, যখন সে ভাবনার জগতে ডুবে যায়। তাই, অফিসের টেবিলের নিচ দিয়ে নেওয়া কাজের বিনিময়ে টেবিলের উপরে থাকা ফাইলটিতে স্বাক্ষর করতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে আবু ইব্রাহীম, অতি সহজেই। সরকারের অগোচরে ফলফলাদি গিলতে নিয়ে হজম করতে পারবে কি না, সেরকম দ্বিধাদ্বন্দ্বে জর্জরিত হয় আবু ইব্রাহীম, অতি সহজেই। শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি করবে, নাকি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে, তা নিয়ে সংশয়গ্রস্ত হয় আবু ইব্রাহীম, অতি সহজেই। প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে একান্ত কিছু সময় কাটাবে, নাকি নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাবে, তা নিয়ে দোনোমনা হয় আবু ইব্রাহীম, অতি সহজেই। এভাবেই অতি সহজেই পাঠক আবু ইব্রাহীমের গল্পে মজে যায়। লেখক আবু ইব্রাহীমের গল্পের মাধ্যমে পাঠককে জানান, জীবন আনন্দ এবং বেদনার সর্বদাই একটি খেলা মাত্র। পাঠকের মনে বাসা বেঁধে নেয় এরকম সাধারণ গোছের অসাধারণ কথাগুলো। উপন্যাস শেষে পাঠক ভাবনায় পড়ে যায়। মানুষ কি আসলেই হঠাৎ করে একদিন মরে যায়? নাকি প্রতিদিন একটু একটু করে ধুঁকে ধুঁকে মানুষ শামুকের খোলসের মতো নিঃশেষিত হয়? কাঙ্ক্ষিত সুখ না পেলেও কি মানুষ একটু করে প্রতিদিন মরে যায় না? খারাপ কাজের অনুশোচনা কি মানুষকে একটু করে মরে যেতে বাধ্য করে না? স্বাভাবিক আর অস্বাভাবিক এই নশ্বর জীবনযাত্রায় মানুষ এমন করেই একটু একটু করে প্রতিদিন মারা যায়। জীবিত অবস্থায়ই আত্মার মৃত্যু হয়ে যায় মানুষের। তারপর হঠাৎ কোনো তুচ্ছ ঘটনায় কিংবা মহৎ কোনো কর্মে মানুষটার নশ্বর দেহ মরে যায়। হয়তোবা সেটা হাঁসের পালকের মতো হালকা হয়; আর নয়তো তা পাহাড়ের চাইতেও অনেক ভারি। এভাবেই পাঠকের মনে এতসব ভাবনার প্রতিফলন ঘটান লেখক শহীদুল জহির, 'আবু ইব্রাহীমের' মৃত্যু নামক এক উপন্যাসে। একদমই উপেক্ষা করা যায় এমন একটি গল্পকেও তিনি নিজের লেখনশৈলীর দক্ষতায় পাঠকের কাছে করে তুলেছেন অসাধারণ। একদমই স্বতন্ত্র আর অদ্ভুত এক বর্ণনাশৈলী নিয়ে পাঠকের কাছে গল্পের ডালা মেলে ধরেন শহীদুল জহির। পাঠক মুহূর্তেই ডুবে যায় সেই গল্পের গভীরে, হেঁটে বেড়ায় আবু ইব্রাহীমের পিছু পিছু। জাদুবাস্তব সে গল্পের অলিগলিতে ছুটে বেড়ায় পাঠক, আবু ইব্রাহীমের একটুখানি সুখের খোঁজে। কিন্তু লেখক যেন পূর্ব পরিকল্পনার মতোই অসুখী আবু ইব্রাহীমকে সাধারণ এক মৃত্যু দিয়ে পাঠককেও অসুখী করে তোলেন। ক্ষণজন্মা মানুষেরাই পৃথিবীতে নিজেদেরকে অমর করে রেখে যান নিজেদেরই সৃষ্টিকর্মে। ঠিক তেমনি কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহির মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি; কিন্তু বাঁচিয়ে রেখেছেন তার চিন্তাভাবনার এক ক্ষুদ্র জগতকে, পাঠকদের উদ্দেশেযে। মাত্র চারটি উপন্যাস, তিনটি গল্প সংকলন আর কিছু প্রবন্ধই ছিল তার স্বল্প জীবনের একমাত্র অর্জন। মৃত্যু পরবর্তী একমাত্র উপন্যাস 'আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু', যা প্রথম আলো বর্ষসেরা পুরস্কার জিতে নেয়। জীবদ্দশায় তিনি অর্জন করেছেন আলাওল সাহিত্য পুরস্কার এবং কাগজ সাহিত্য পুরস্কার। 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' (১৯৮৮), 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল' (১৯৯৫) এবং 'মুখের দিকে দেখি' (২০০৫) তার উপন্যাসগ্রন্থ। 'পারাপার' (১৯৮৫), 'ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প' (২০০০), 'ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প' (২০০৪) তার উল্লেখযোগ্য গল্প সংকলন। সরকারি আমলা হয়েও বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি যুক্ত করেছিলেন এক স্বতন্ত্র রীতি; যা জাদুবাস্তব বলে খ্যাত হলেও 'শহীদুল জহিরীয়' ধারা নামেই অধিক পরিচিত। তবে নিভৃতচারিতা শহীদুল জহিরকে আড়াল করে রেখেছে তার লেখক জীবনের শুরু থেকেই। মাত্র ৬৪ পাতার একটি ক্ষুদ্র উপন্যাসে স্বল্প পরিসরে বর্ণিত একজন মানুষের গল্পটাকেই বৃহৎ এক চিন্তার জগতে পরিণত করেছেন লেখক। তিনি প্রতিটা শব্দ এত যত্নে বাছাই করে নিয়েছেন যে, সেসব শব্দ বা বাক্য যেন পাঠককে ভাবাতে বাধ্য করে। পুরো উপন্যাস জুড়েই লেখক প্রধান চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টাকে পাঠকের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। লেখক কখনো মৃত্যু থেকে জীবিত জীবনের দিকে পাঠককে নিয়ে যায়; আবার কখনো জীবিত থেকে মৃত্যুর দিনে নিয়ে দাঁড় করায় পাঠককে; সঙ্গে প্রায়ই ছুঁড়ে দেয় প্রশ্নের উপর প্রশ্ন। কিন্তু এতকিছু সত্ত্বেও, পাঠক বিভ্রান্ত হয় না। বরং নিজেকে হারিয়ে ফেলে লেখকের কল্পিত অথচ বাস্তবযোগ্য এক জগতের ভিড়ে। আর এখানেই যেন লেখক নিজের সার্থকতার প্রস্ফুটিত রূপ খুঁজে পায়। তবুও এই গল্পের জগতে পরিভ্রমণে বের হয়ে পাঠক হোঁচট খায় বেশ কিছু কারণে। ভুল বানান, ছাপার ভুল, অতিরিক্ত দীর্ঘ বাক্য কিছু পাঠকের বিরক্তির উদ্রেকের কারণ হতে পারে। তবে এও ভুলে গেলে চলবে না যে, এ উপন্যাসের প্রকাশকালের বানানরীতির সঙ্গে বর্তমান বানানরীতিতে এক জগত পার্থক্য বিদ্যমান। তাছাড়া, পাঠক হয়তোবা লেখকের এই লেখনশৈলীর সঙ্গে কেবলই পরিচিত হয়েছে বিধায় এমন বিরূপ ভাব মনে হাজির হতে পারে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে হাসিমাখা মুখ নিয়ে হাজির হয় অসুখী আবু ইব্রাহীম। তার অতীত প্রেমিকার আগমন, চলমান সংসার ও সম্মুখ স্বপ্নের মধ্যে আকস্মিক মৃত্যু আসে, আর তখনই সত্য হয়ে ওঠে এই উপন্যাসের অমর সত্যদর্শন– জীবন, আনন্দ এবং বেদনা সর্বদাই একটি খেলামাত্র। সেই খেলায় হেরে যাওয়া শহীদুল জহিরের অপ্রকাশিত এক কবিতার দু'টি লাইন দিয়ে শেষ হচ্ছে আজকের এই গ্রন্থ পর্যালোচনা। ... তবুও আমরা আরও একবার সমবেত হলাম, আর আমাদের সময়ের মাধ্যমে একটি কুঁড়ি ফুলে পরিণত হয়, একটি রূপালি রূপচাঁদা নোনা পানিতে ভাসে ... — শহীদুল জহির বই: আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু লেখক: শহীদুল জহির প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ প্রকাশনী: মাওলা ব্রাদার্স মলাট মূল্য: ১০০/- টাকা রিভিউ লিংক - https://roar.media/bangla/main/book-movie/abu-ibrahimer-mrittu-book-review

      By Azizul islam

      24 Jun 2021 10:10 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      ভাল লাগার ২ টা বই

      By MD. Alamgir Kabir

      02 May 2021 01:09 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      অসাধারণ লেখা। এক মহাকাব্যিক উপন্যাস। শুরুর দুটি পাতা মনোযোগ দিয়ে বাকিটা একটানা পড়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। এত অল্প পৃষ্ঠার মধ্যে একটা জীবনের বড় অংশ ফুটে উঠেছিল নিখাদ বাস্তবতার মত। খুব ভালো মানের লেখা।

      By মহীন

      09 Aug 2021 03:25 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      কাহিনি মূল চরিত্র আবু ইব্রাহীম প্রকৃতপক্ষে একজন অসুখি মানুষ। পেশায় যিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। ইব্রাহীমের সংকটাপন্ন জীবনে তার স্ত্রী, কন্যা, সহকর্মী, ঘুষদাতা ব্যবসায়ী ও পুরোনো বান্ধবীর সঙ্গে তার নিরুপায় মিথস্ক্রিয়ার চিত্র উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়। উপন্যাসের পটভূমি গড়ে উঠেছে ঢাকার বেইলি রোডের সরকারি কলোনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মতিঝিল, সচিবালয় ও সিরাজগঞ্জের এলাকায়।

      By Ehsanul Banna Shihab

      29 Jan 2020 02:18 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      সুন্দর, সাবলীল ভাষায় রচিত একটি সুন্দর উপন্যাস। একটু উদাসীন টাইপের মানুষের সাদামাটা জীবনের কাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ঢাকার মধ্যবিত্ত সরকারি চাকুরেদের সংসার জীবন অনেকটা বোধহয় এরকমই। এদের জীবনে না আসে পরিপূর্ণ সুখ, না বেদনা। জীবনঘনিষ্ট এই উপন্যাস পড়ে আশা করি সবারই ভাল লাগবে

      By Al-Amin Sabuj

      20 Jan 2020 11:04 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      "সিরাজগঞ্জ শহরের কালিবাড়ি রোডে, মমতাদের বাড়ির প্রাঙ্গণে, পেয়ারা গাছ তলায় শববাহকেরা যখন আবু ইব্রাহীমের লাশসহ খাটিয়া কাঁদে তুৃলে নেয় এবং প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে জুমা মসজিদের দিকে যেতে থাকে তখন আবু ইব্রাহীমের পৃথুলা বিধবা স্ত্রী মমতার এই শোক এবং নির্মম বাস্তবতার ভেতর বহুদিন পূর্বের এক রাত্রির কথা মনে পড়ে। সেদিন গভীর রাতে ঢাকার বেইলি রোডের সরকারি কলোনিতে আবু ইব্রাহীম মমতাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ব্যালকোনিতে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলেছিল সারস পাখির ঝাঁক উইড়া যাইতেছে, শোনো।" এই ঘটনাবহুল দীর্ঘ দুই লাইন দিয়ে উপন্যাসটির শুরু হয়েছে। চমকপ্রদ লিখনি পুরোটা উপন্যাস জুড়ে। আবু ইব্রাহীম সরকারি কর্মকর্তা। সরকারী কলোনিতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে তার সুখেই থাকার কথা। স্ত্রীকে 'সারস পাখির ঝাঁক উইড়া যাইতেছে' টাইপের রোমান্টিসিজম দেখালেও স্ত্রী তাকে পাগল বলে। অফিসের সহকর্মীরা তার নির্লিপ্ত আচরণে বিরক্ত হয়। যৌবনে লালিল রাজনৈতিক আদর্শ অর্জনের পথ থেকে সরে আসার গ্লানিবোধ তার এই চাকুরি বিমুখতার অন্যতম কারণ। দাম্পত্য জীবনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় হেলেন নামক এক মেয়েকে ভালোবাসতো। তবে সেই মেয়ে তার আকাঙ্ক্ষা কখনোই পূর্ণ করেনি এবং সে ব্যর্থ প্রেমের কাঙালপনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঘুরে বেড়িয়েছিল। আর তার বহুদিন পর বিবাহিত জীবনে স্ত্রী-পুত্র- কন্যার বেষ্টনের মধ্যে আবু ইব্রাহীমের মনে হয় যে, "হেলেনকে ছাড়া সে মরে যায়নি। আবার তার এও মনে হয়, হেলেনের সে প্রেমিক ছিল না, ছিল পূজারি এবং হেলেন দেবীদের মতোই পূজারিকে অবহেলা করতে শিখেছিল" তার এই নিরামিষ জীবনে হুট করে আসে হেলেন আর কর্মজীবনে আসে তার নীতি বহির্ভূত এক কাজের সুযোগ। এই ঘটনাই তাকে হাসের পালকের মত মৃত্যু এনে দেয়। বইটা খুবই সংক্ষিপ্ত হলেও অত্যন্ত সাবলিল ও সুখপাঠ্য।

      By Rezaul Karim

      03 Oct 2019 03:10 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      বইটিতে লেখক সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত এক প্যারাডক্স (স্ববিরােধী) কেন্দ্রীয় চরিত্র সাধারণ একজন সরকারী চাকুরীজীবী আবু ইব্রাহীমের মৃত্য ছিল বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হাল্কা কিন্তু। সেজন্য তাকে মৃত্যুকে গ্রহণ করতে সেই কারণটিকে আমার থাই পাহাড়ের চেয়েও কম ভারী মনে হয়নি। আমি সব পাঠকদের বলব না এই বইটি পড়তে। তবে যে পাঠকেরা একটি লেখা নিয়ে চিন্তার খােরাক যােগাতে যান। দ্ব্যর্থকতার মাঝে সঠিক ধারণাটি অনুমান করার আনন্দ নিতে চান তাদের জন্য বাংলাসাহিত্যে আমার মনে হয় শহীদুল জহিরের কোন বিকল্প লেখক নেই।

      By Md. Naiem Hasan Shoikot

      23 Aug 2021 04:46 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      লেখকের অনবদ্য সৃষ্টি। প্রিয় একটা উপন্যাস।

      By Naim

      12 Nov 2019 11:30 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      Boi porata amar shokh-er o valolagar bisoy . Sai shokh o valo laga hote amra gore tulesi amader office library . Thanks Rokomari amader sokol boi thik quality te ena dewar jonno . And aro thanks alokito bangladesh gorar proyash newar jonno . Thanks the all team member of Rokomari .

      By Shadin Pranto

      02 Oct 2019 06:14 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      সরকারি কর্মকর্তা, অদ্ভুত রকমের ভাবুক, স্নেহময় পিতা, উদাসীন স্বামী, প্রেমিক আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুদিন থেকে শুরু উপন্যাস। সমাপ্তিও আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু দিয়েই৷ এরইমাঝে লেখকের স্মৃতিপটে হাজির হয় অনেকগুলো ঘটনা। একটি আদর্শ উপন্যাসের এলিমেন্ট কেমন হতে পারে?উত্তরটি হলোঃ 'আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু'তে যেসব উপকরণের লক্ষণ আমরা পাই, সেইসব উপাদান থাকলে একটি উপন্যাসকে সহজেই আদর্শ উপন্যাস বলা যায়। কী নেই মাত্র ৬৫ পাতার একটি উপন্যাসে? একজন সরকারি কর্মকর্তা আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর সাথে ঘটনা শুরু। বই সমাপ্ত আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর ঘটনা দিয়েই। সামাজিক, রাজনৈতিক ঘটনাচিত্রের বয়ানের সাথে সম্মিলন ঘটেছে প্রেম, বিচ্ছেদ এবং মোহনীয় গদ্যের। শহীদুল জহিরের যাদুমাখা লেখার তুলনা শুধু তাঁর অন্য রচনার সাথেই দেওয়া যায়। 'আবু ইব্রাহীম মৃত্যু'র ঔপন্যাসিক ম্লান হয়ে যান 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল'র ঔপন্যাসিক শহীদুল জহিরের কাছে। তাই তিন তারকা।

      By আহমেদ কবির

      15 May 2014 12:54 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      tanjila omi কর্তৃক লিখিত রিভিউটি উনার নিজের নয়। এটি আগেই প্রকাশিত হয়েছে অন্য জায়গায়। বেশিরভাগ বাক্য হুবহু তুলে নেয়া হয়েছে আগের লেখাটি থেকে। প্রকৃত লেখকঃ শেরিফ আল সায়ার প্রকাশকালঃ নভেম্বর ১৭, ২০১৩ at ৪:০৫ অপরাহ্ন লিংকঃ http://tinyurl.com/md7qhol উপন্যাসটির মূল চরিত্র আবু ইব্রাহিম একজন নির্জন সাধারণ মানুষ। ব্যক্তি জীবনে স্ত্রী-কন্যা-পূত্র নিয়ে তার মধ্যবিত্ত সংসার। এ মধ্যবিত্ত্ব অবস্থার মাঝেও তার ভেতর কাজ করে এক ধরনের শূন্যতা। যে শূন্যতা খোদ্ শহীদুল জহিরও বু্ঝে উঠতে পারেনি বলেই আমার মনে হয়। হয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যর্থ প্রণয়ের বিষন্নতা কিংবা ছাত্র জীবনের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে নিজের বিচ্যূতি। এসবই হয়তো আবু ইব্রাহিমের শূন্যতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। আবার হয়ত- স্ত্রী মমতার প্রতি তার অব্যক্ত ভালোবাসা যা হয়ত সে নিজেও বুঝে উঠতে পারে না। কিংবা মমতাকে বোঝাতে পারে না। কিংবা ব্যর্থ প্রেমের কাঙালপনা সত্ত্বেও আবু ইব্রাহিম এক সময় অনুভব করে, হেলেনকে ছাড়া তো সে এতদিন খারাপ থাকেনি। এ সবই যেন পাঠককে বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যায়। হয়ত- লেখক নিজের ইচ্ছাতেই পাঠককে বিভ্রান্ত করতে চায়; হয়ত আবু ইব্রাহিমই বিভ্রান্তময় একটি চরিত্র হয়ে উঠে। যাইহোক। উপন্যাসের শুরুতেই বলে দেয়া হয় আবু ইব্রাহিমের মৃত্যুর কথা। সে সময় আবু ইব্রাহিমের লাশ একটি খাটিয়ায় করে তার বেইলী রোডের বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঠিক তখন তার স্ত্রী মমতার অনেক আগের একটি রাতের কথা মনে পড়ে। সে রাতে সারস পাখির ঝাক উড়ে যাচ্ছিল। আবু ইব্রাহিম তার স্ত্রীকে ঘুম থেকে জেগে তোলে ব্যালকনিতে নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে- ‌‍‍”সারস পাখির ঝাক উইড়া যাইতাছে। শোনো।” এই কথা মনে করতে করতে মমতার আরও মনে পড়ে সে তখন বলেছিল, তুমি একটা পাগল। আরো পড়তে- http://tinyurl.com/md7qhol

    •  

    Recently Viewed


    Great offers, Direct to your inbox and stay one step ahead.
    • You can pay using


    JOIN US

    icon Download App

    Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money. You can buy books online with a few clicks or a convenient phone call. With breathtaking discounts and offers you can buy anything from Bangla Upannash or English story books to academic, research or competitive exam books. Superfast cash on delivery service brings the products at your doorstep. Our customer support, return and replacement policies will surely add extra confidence in your online shopping experience. Happy Shopping with Rokomari.com!