User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
রকিব হাসান 'তিন গোয়েন্দা' লেখা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে অনেকেই 'তিন গোয়েন্দা' পড়েন না। কারণ তাদের অভিযোগ, শামসুদ্দীন নওয়াব নাকি কিশোর, মুসা, রবিনদের চরিত্রকে একেবারে বদলে দিয়েছেন। অন্যান্য চরিত্রগুলোকেও আগের মত পাওয়া যায় না। রকি বিচের বর্ণনাও অনেক কমে গেছে। এসবই সত্য। তবে এটাও মানতেই হবে যে সব লেখকের লেখনীর ধরণ আলাদা। এবং এই ভিন্ন রকমের লেখনী দিয়েও কিন্তু বেশ সফলভাবেই তিন গোয়েন্দাকে একটা সময় পর্যন্ত টেনে নিতে পেরেছিলেন শামসুদ্দীন নওয়াব। 'কালকেউটের ছোবল' সেটারই একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ। জিনা, ফারিহাদের দেখা এই উপন্যাসে মেলেনি ঠিকই এবং তার বদলে রেমন, শ্যারনের মত নতুন চরিত্র এসেছে; তবু তিন গোয়েন্দাকে নিয়ে রচিত উপন্যাসের যে থ্রিল, তা কিন্তু যথার্থভাবেই বিদ্যমান রয়েছে এই উপন্যাসে। এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট রকি বিচের পাশের শহর পাইন বিচ। এর কারণটা সুস্পষ্ট। এই উপন্যাসে কয়েকটি পুলিশ চরিত্রের বড় ভূমিকা রয়েছে কিন্তু যেহেতু রকি বিচের পুলিশ সার্জেন্ট হিসেবে ইয়ান ফ্লেচারের চরিত্রটি আগে থেকেই বিদ্যমান, তাই এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপটকে রকি বিচের বদলে অন্য কোন শহর করা নিতান্তই প্রয়োজনীয় ছিল। এবং সেটাই করেছেন কুশলী লেখক! একটি কনসার্ট থেকে ফিরছিল তিন গোয়েন্দা। সাথে ছিল বান্ধবী শ্যারন। তার কাছ থেকেই জানতে পারে তাদের আরেক বন্ধু রেমন ফেইথফুল ইয়থ নামে একটা কোম্পানিতে কাজ শুরু করেছে। সেই কোম্পানির ওয়্যারহাউজ তাদের পথে বেধে যাওয়ায়, আগ্রহবশত তার সামনে গাড়ি নিয়ে আসে মুসা। আর তখনই ঘটে কিছু ঘটনা। প্রথমে রাস্তার মাঝখান দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে এক তরুণকে এবং পরে দেখা যায় আগুন লেগেছে ওয়্যারহাউজে। ওয়্যারহাউজের ম্যানেজার অগ্নিকান্ডের জন্য দোষারোপ করে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া ছেলেটিকে যার নাম আর্নি অ্যান্ডারসন। মুসারও ধারণা আর্নিই দোষী। তাই আর্নিকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয় সে। কিন্তু কিশোরের ধারণা ভিন্ন। সে ভাবে আর্নি নয়, দোষী অন্য কেউ। এভাবেই রহস্যের গন্ধ পেয়ে এই কেসে নিজেদের অজান্তেই জড়িয়ে পড়ে তিন গোয়েন্দা, রেমন আর শ্যারন। একটা পর্যায় মুসা নিজের ভুল বুঝতে পারে। তারপর থেকে ওরা ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্নিকে বাঁচানোর মিশনে। তারপর ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে অনেক রহস্য। এক পর্যায় ওরা বুঝতে পারে, যে কেস হাতে নিয়েছে ওরা তা নিছকই কোন পরস্পর বিরোধিতামূলক রহস্য নয়। এর অন্তরালে রয়েছে বোমা চোরাচালানের মত ভয়ংকর অপরাধ, যার সাথে আবার যোগ হয়েছে ব্ল্যাকমেইলিং এর বিষয়টিও। এভাবে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কালকেউটে বেরিয়ে আসে। আর বেরিয়ে ছোবলও মারতে শুরু করে! বারবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরতে থাকে তিন গোয়েন্দা। কিন্তু শেষ রক্ষা কি হবে? এমনই কাহিনী নিয়ে 'কালকেউটের ছোবল'। দারুণ জমাটি কাহিনী। বিষয়বস্তু যেমন বেশ শক্তিশালী, তিন গোয়েন্দাকে নিয়ে লেখকের কাহিনী উপস্থাপনাও সমানভাবে প্রশংসাযোগ্য। সবমিলিয়ে তাই 'কালকেউটের ছোবল' আসলেই অসাধারণ একটি থ্রিলার যা পড়ে প্রথম দিককার তিন গোয়েন্দার ফ্লেভার পেতে পারবে পাঠকেরা।