User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, পুলিশ শব্দটিই কেমন যেন! এ শব্দের মাঝে মিশে আছে সন্দেহ আর অবিশ্বাস। শব্দটি শুনলে রাগ এবং ঘৃণা অনুভব করেন এমন মানুষের সংখ্যাও খুব একটা কম নয়। এটি অপশব্দ তথা নেগেটিভ শব্দে রূপ নিয়েছে। একটি শব্দটি যখন ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, বুঝতে হবে তার মাহাত্ম্য কম নয়। পুলিশ (চড়ষরপব) শুধু একটি শব্দ নয়, এক বিশেষ পেশাজীবী। যে কোনো রাষ্ট্রের অনিবার্য অনুষঙ্গ। অধুনা বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী। এ বাহিনীকে আবার একাধিক ভাগে বিভক্ত করা যায়। তবে বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে পুলিশই হাতে তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা তথা জনগণের জানমাল হেফাজতের ভূমিকা। কিন্তু বাংলাদেশে পুলিশবাহিনী ভূমিকা যাই হোক, ইমেজ সন্তোষজনক নয়। অথচ ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই এ বাহিনী স্বীয় কর্মগুণে আলোচিত। এদের ক্ষমতার কথা ভেবে আজও মানুষ ছড়া কাটে- মাছের রাজা ইলিশ/জামাই’র রাজা পুলিশ! জামাই হিসেবে পুলিশকে প্রথম সারিতে স্থান দেয়া হলেও মানুষ হিসেবে কিন্তু অগ্রভাগে রাখা হয়নি। এদেশে পুলিশ মানেই ভেজাল উৎপাদনকারী, দুর্নীতিবাজ এবং দুর্নীতির আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, চাঁদাবাজ, ধর্ষক, ঘুষখোর, শক্তের ভক্ত নরমের যম, ধনবান এবং অবৈধ প্রতিপত্তি-বিত্তশালীদের প্রতি নির্লজ্জভাবে নতজানু আরো অনেককিছু। কেন এই অনাস্থা, সন্দেহ-অবিশ্বাস, বিরূপ মনোভাব? পুলিশ শব্দটিকে মানুষ গ্রহণ করতে পারেনি কেন? এ প্রশ্নের উত্তর অনেক গভীরে প্রোথিত। সাদামাটা চোখে দেখলে বোঝা হয়ে যাবে, পুলিশের এই চরিত্র একদিনে দাঁড়ায়নি। ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই পুঞ্জিভূত হতে হতে বর্তমানে এ অবস্থায় রূপ নিয়েছে। এ পেশাজীবীদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-সম্মান এখন তলানিতে। এর নেপথ্যে জোরালো কারণ অবশ্যই আছে। কোনোকিছুই তো আর এমনিতেই হয়ে যায় না। তাহলে কি পুলিশ বিভাগ মানেই অসৎ মানুষের আখড়া, সৎ কোনো মানুষ নেই এখানে! অবশ্যই আছে, কিন্তু নেতিবাচক ইমেজের কাছে চাপা পড়ে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসতে পারছে না সেগুলো। তারপরও কিছু কিছু ঠিকই উঠে আসে। চাইতে বা চাইতে কিছু সৎ এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের দেশ ও মানবপ্রেমিক পুলিশ মানুষের চোখে ঠিকই ধরা দেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, সিংহভাগই থেকে যান আড়ালে। এই পুলিশেরই শিল্পসত্তা যখন পরিস্ফুট হয়ে ওঠে, পুলিশ লেখক-গবেষক হিসেবে আবির্ভূত হন, তখন বিষয়টা কেমন দাঁড়ায়! একজন পুলিশ সদস্য, পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আহমেদ আমিন চৌধুরীর জীবন ও কর্মের দিকে আলোকপাত করলে যে কারোই চোখে বাসা বাঁধবে মুগ্ধতা, স্নিগ্ধ ও মোহন আলো গ্রাস করে নিতে চাইবে। পুলিশ বিভাগে বেশ কয়েকজন লেখকের উপস্থিতি শক্তিশালী কিন্তু সে তুলনায় গবেষক নেই বললেই চলে। অর্থাৎ একই সাথে যারা লেখক ও গবেষকসত্তাকে লালনপালন করে সে অনুযায়ী কাজ করেছেন। বাংলাদেশিদের জন্য চরম সৌভাগ্য, একজন নিবেদিতপ্রাণ আহমেদ আমিন চৌধুরী তাঁর সৃজনসম্ভার নিয়ে, নিজের সবটুকু প্রজ্ঞা-মেধা-কর্মযজ্ঞ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ বই হয়ে উঠেছে পুলিশের প্রতি ভালোবাসা জাগানিয়া বস্তু!