User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
বইটির প্রচ্ছদ অনেক সুন্দর। খুবই ভালো লেগেছে। তবে বইয়ের অরিজিনাল গন্ধের একটা অন্যরকম স্বাদ আছে তা কালার পেপারে নেউ।
Was this review helpful to you?
or
??????????????
Was this review helpful to you?
or
বইটা খুবই ভালো লেগেছে। মনে হলো অনেকদিন পর একটা ভালো বই পড়লাম।
Was this review helpful to you?
or
?
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ একটি বই ।।। আসলে সবকিছু ভাষায় প্রকাশ করা যায় না .... ❤️❤️❤️
Was this review helpful to you?
or
বইঃ মরিসাকি বইঘরের দিনগুলো লেখকঃ সাতোশি ইয়াগিসাওয়া অনুবাদকঃ সালমান হক প্রকাশনীঃ অবসর প্রকাশন মুদ্রিত মূল্যঃ ৫০০ কাহানি সংক্ষেপেঃ তাকাকো যে কিনা একজন মেয়ে এবং এ বইয়ের প্রধান চরিত্র৷ গল্পটা একটু অন্যরকম ভাবে শুরু হয়৷ তাকাকো একটি অফিসে চাকরি করত যেখানে হিদেয়াকি নামক একজন ছেলের সাথে সম্পর্কে থাকাকালীন সময় জানতে পারে হিদেয়াকির আড়াই বছরের একটি সম্পর্ক আছে৷ এটা শুনে তাকাকোর মনক্ষুন্ন হয়৷ এবং ভীষনভাবে ভেঙ্গে পড়ে৷ একা রুমে নিজেকে বন্দি করে নিজেকে৷ কিছুদিন এভাবে চলার পর মামা ফোন দেয়, মরিসাকি বইঘরে কাজ করার বলে, শুরুতে রাজি না হলেও পরবর্তী রাজি হয়৷ চলে আসে এ শহরে৷ প্রথম কিছুদিন মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও তারপর মন বসে যায়৷ হঠাৎ করেই তাকাকো বই পড়তে শুরু করে এবং নিজেকে আবিস্কার নতুন ভাবে৷ তাকাকোর মামার এই দোকানটা ছিল পুরানো বইয়ের দোকান৷ তাদের প্রতিনিয়ত কাস্টমারদের মধ্যে একজন হল সাবু৷ বইয়ের মধ্যে সাবু চরিত্র টা আমার ভালোই লাগে৷ তাকাকোর মামার স্ত্রী ৫ বছর পর ফিরে আসে৷ তাকাকোর মামির নাম মোমোকো৷ এ নারী বড় রহস্যময়ী৷ একটু যেন ধরা ছোয়ার বাইরে৷ হুট করে একদিন চলে যায় আবার ফিরে আসে৷ তারপর তাদের তিনজনের গল্পটা অসাধারণ৷ বিশেষ করে তাকাকো এবং তাকাকোর মামি মোমোকার৷ নিজস্ব মতামতঃ বইটা পড়ার সময় জাপানিজ নাম গুলো গুলিয়ে ফেলছিলাম, তাই ছোট ছোট নোট নিয়ে রাখছিলাম৷ তবে মজার বিষয় হচ্ছে বইটার চরিত্রে নিজেকে আবিস্কার করতে পেরেছি৷ পড়তে পড়তে ভাবছিলাম আমি যদি তাকাকোর জায়গায় থাকতাম তবে হয়ত মরিসাকিতে সারাজীবন কাটিয়ে দিতাম৷ অন্য কোথাও যাবার সিদ্ধান্ত নিতাম না৷ প্রোডাকশনঃ অসাধারণ রকম প্রোডাকশন ছিল৷ বই খোলা মাত্র একটা ঘ্রান নাকের কড়া নাড়ল৷ যদিও ঘ্রানটা ছিল কালীর অথবা তেলের৷ যদিও ভালো লেগেছে৷ প্রোডাকশন রেটিং-৫/৫ গল্প রেটিং-৪/৫
Was this review helpful to you?
or
লাইব্রেরী আর বই দুইটার জন্য ই আমার আগ্রহের শেষ নেই আর দুইটা দিক ই খুব ভালো ভাবে প্রকাশ পেয়েছে সাতোশি ইয়াগিসাওয়া এর বইটি তে :)
Was this review helpful to you?
or
মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি (গ্রিন এডিশন) বই: মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি লেখক: সাতোশি ইয়াগিসাওয়া অনুবাদক : Salman Haque প্রকাশনী : Abosar Prokashana Sangstha পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬০ পেইজ : গ্রিন অ্যাডিশনে (Light grayish lime green), চোখের জন্য সহনীয় এবং আরামদায়ক কালার বাঁধাই: ক্রাউন হার্ডকভার মরিসাকি বুকশপের দিনগুলি পুরানো বইগুলির আরামদায়ক সুবাসের মধ্যে নিরাময় এবং আত্ম-আবিষ্কারের একটি হৃদয়গ্রাহী গল্প। তাকাকোর জীবন যখন একটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়, তখন সে নিজেকে তার মামার সেকেন্ড হ্যান্ড বিচিত্র বইয়ের দোকানে আশ্রয় খুঁজে পায়, যা টোকিওর জিম্বোচোতে আলোচিত সাহিত্য কেন্দ্রের মধ্যে অবস্থিত। বইয়ের জগতে নিজেকে নিমজ্জিত করার সাথে সাথে, তাকাকো ব্যক্তিগত বৃদ্ধির যাত্রা শুরু করে, পৃষ্ঠাগুলির মধ্যে পাওয়া জ্ঞান এবং সে যাদের মুখোমুখি হয় তাদের চরিত্র দ্বারা পরিচালিত হয়। মরিসাকি বুকশপ তার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়, এমন একটি জায়গা যেখানে সে তার ভাঙা হৃদয়কে মেরামত করতে পারে এবং তার আবেগকে পুনরায় আবিষ্কার করতে পারে। সালমান হকের অনুবাদ মৃদু এবং কাব্যিক, দৈনন্দিন জীবনের শান্ত সৌন্দর্য এবং সাহিত্যের গভীর প্রভাবকে ধারণ করে। তাকাকোর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, আমরা গল্পের রূপান্তরকারী শক্তি এবং তারা কষ্টের সময়ে যে সান্ত্বনা দিতে পারে তার কথা মনে করিয়ে দেয়। মরিসাকি বুকশপের দিনগুলি হল গ্রন্থমনস্ক বা গ্রন্থপ্রিয় ব্যক্তিদের জন্য একটি প্রেমের চিঠি এবং আমাদের নিজেদের এবং আমাদের চারপাশের বিশ্বের সাথে সংযুক্ত করার জন্য বইগুলি স্থায়ী শক্তির একটি প্রমাণ৷ এটি এমন একটি গল্প যা চূড়ান্ত পৃষ্ঠাটি উল্টানোর পরেও দীর্ঘস্থায়ী হয়, যা আমাদের পড়ার সহজ আনন্দ এবং বইয়ের প্রতি ভাগ করা ভালবাসার মাধ্যমে আমরা যে সংযোগগুলি তৈরি করি তা লালন করার কথা মনে করিয়ে দেয়।
Was this review helpful to you?
or
চমৎকার বই, অনুবাদও সেরা। জাপানী বইয়ের হাইপে কিছুটা প্রভাবিত হয়েই এই বই কিনেছিলাম, তবে ঠকিনি। Recommended!
Was this review helpful to you?
or
এই বইটার কথা আর নতুন করে কি বলবো! কিন্তু একটা ভালো সময় কেটেছে এই বইটা পড়ার সময়..... তাকাকো, সাতোরু এবং মোমোকোর মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং বইয়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি ও ফুটে উঠেছে এই গল্পটাতে...। একটা মানুষ বইয়ের নেশায় একবার ডুব দিলে যে আর ফিরে আসতে পারে না, তা এই গল্পটি পড়লে ভালো করেই বোঝা সম্ভব ! আবারো নতুন করে নিজেকে খুঁজে পেলাম বইয়ের নেশার একটি অংশতে,,,,, সবার ভালো লাগবে আশা করি ?
Was this review helpful to you?
or
বর্তমানের জাপানী বইয়ের অনুবাদের একটা স্রোত চলছে বইপাড়ায়। 'মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি'ও জাপানী লেখক সাতোশি ইয়াগিসাওয়া রচিত বই। অনুবাদে ছিলেন দেশের সেরা অনুবাদকদের একজন সালমান হক। এই বইয়ের কাহিনিটা সামাজিক, আরো বেশি করে বললে পারিবারিক- আবর্তিত হয়েছে একটি পরিবারের সদস্যদের ঘিরে। বইয়ের মূল চরিত্র মোটাদাগে তিনটি। তাকাকো, তাকামোর মামা সাতোরু ও মামী মোমোকো। প্রেমে ব্যর্থ হবার পর তাকাকো চলে আসে ওর মামাদের মরিসাকি বইঘর দোকানে, যেটা কিনা তাদের পারিবারিক ব্যবসায় ছিল। সেখানে ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পায় তাকাকো। মামা-ভাগ্নীর একে অপরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আবেগ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টা দারুণ ছিল। এরপর দ্বিতীয় পর্বে গল্পে আসে নতুন মোড় মামার থেকে আলাদা থাকা মামী মোমোকো ফিরে আসায়। সাতোরুর সাথে আবার কি মিল হলো মোমোকোর? ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আবেগ-অনুভূতির নামই কী জীবন? জানতে হলে বইটা পড়তে হবে। বইটাকে আমার কাছে স্রেফ মানবীয় অনুভূতির প্রকাশের একটা বই মনে হয়েছে। জাপানী অনেক বইয়ে যেমন একটু গতিমন্থরতায় ভোগে, এই বই তেমন নয়। কাহিনীর বর্ণনায় এক ধরনের স্মুথনেস আছে যা পাঠকের ভালো লাগবে। আর অনুবাদক তো আমার প্রিয় একজন অনুবাদক। অনুবাদ পড়া যাদের বই দিয়ে শুরু হয়েছিল, তাদের মধ্যে তিনিও একজন। বইয়ে কিছু মনে রাখার মতো উদ্ধৃতি আছে, যেটা অনুবাদে অনুবাদক বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। তবে, এই বইয়ের কিছু কিছু জায়গায় অনুবাদটাকে ঠিক বলে মনে হয়নি, আটকে যেতে হয়েছে। যেমন, ৮৯ পৃষ্ঠায় লেখা আছে, “মামি হঠাৎ ফিরে এলো কী মনে করে? আর তুমিও তাকে কিছু না বলে আপ্যায়ন করোই বা কীভাবে?” এখানে ‘আপ্যায়ন’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, বোধগম্য না। এভাবে না বলে ‘আর তুমিও তাকে কিছু না বলে কীভাবে তার মনোরঞ্জন করছ?” বা ‘আর তুমিও তাকে কিছু না বলে মজে গেলে কীভাবে?” – তবে সেটা হয়তো আরো সুন্দর, বেশি পাঠযোগ্য হতো। এরকম বেশকিছু জায়গায় দুবার পড়ে মূল ভাবটা বা বাক্যের অর্থটা বুঝতে হয়েছে। তবে, বাজারে যে দুটো অনুবাদ এই বইয়ের রয়েছে, তাদের মধ্যে এটাই বেটার মনে হয়েছিল আমার কাছে; তাই এটাই সংগ্রহ করেছি। ওভারঅল বইটা গুড রিড। সময় কাটানোর জন্য ভালো বই। রেটিং: ৪/৫
Was this review helpful to you?
or
Good service . It's eye soothing copy but I will recommend the black edition for put it in collection
Was this review helpful to you?
or
#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ ❝আমাদের সবার মাঝেই একটা করে পাঠক সত্ত্বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। শুধু তাকে জাগিয়ে তোলার অপেক্ষা...!❞ এই কথাটির পূর্ণ প্রতিফলনই যেন ‘মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি’। একটি মেয়ে তাকাকো। নিঃসঙ্গ, একাকিত্বে ভোগা এই মেয়েটির কিছুদিন আগেই প্রেমিকের সাথে বিচ্ছেদ ঘটেছে। একইসাথে সে প্রেমিক ও নিজের চাকরি দুটোই হারিয়ে ফেলেছে জীবন থেকে। নিমজ্জিত হয়েছে প্রবল হতাশায়। জীবনকে উপভোগ করার বয়সে হারিয়ে ফেলছে অনেকটা উপভোগ্য সময়। তাকাকোর মামা সাতোরু। যে কিনা তাকাকোকে নিজের মেয়ের মতনই ভালোবাসেন। কিন্তু তাকাকোর কাছে তিনি স্রেফ একজন বাউণ্ডুলে, ব্যক্তিত্বহীন ও উদ্দেশ্যহীন এক পুরুষ। যিনি নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছুই করেন না, অন্যের জীবনে নাক গলানো যার সবচেয়ে পছন্দের কাজ। আরেকটা পছন্দের কাজ হলো ঘ্যানঘ্যান করে নিজের ইচ্ছে অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া। সেই বিরক্তিকর, একঘেয়ে, বাঁচাল মামার কাছেই অবশেষে তাকাকোর ফিরে যেতে হচ্ছে নিজের হতাশা দূর করার জন্যে। তার মামার একটি বইয়ের পুরনো দোকান আছে। নাম ‘মরিসাকি বইঘর’। তাকাকোর মায়ের পরিবার তিন পুরুষ ধরে এই দোকানটিকে টিকিয়ে রেখেছেন। এককালে এখানে সরাইখানা ছিল বলে দিনযাপনের জন্য কিছু ব্যবস্থা সেখানে করাই আছে। তাই তাকাকোর থাকার ব্যবস্থাও ওখানেই করা হয়েছে। চারদিকে বইয়ে একাকার অবস্থা। কিন্তু তাকাকোর কাছে সেগুলোর কোনো মূল্যই ছিল না। জিমবাচোর ছোট্ট বইটির দোকানেও তাকাকোর জীবন সেই একঘেয়েভাবেই চলতে লাগলো সেদিন পর্যন্ত, যেদিন কিনা সে ওই নির্মল, মন কেমন করা ক্যাফেতে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে। ঠিক ওইদিন থেকেই তাকাকোর চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন ঘটতে লাগলো। জীবনকে নতুন করে অনুভব করা থেকে শুরু করে হেলাফেলায় কাটানো সেই দিনগুলো নিয়ে পর্যন্ত তার আফসোসের কমতি ছিল না। বাড়তে লাগলো তার বন্ধুর সংখ্যা, বইয়ের সাথে সখ্যতা বাড়তে লাগলো, আর সে নতুন করে জানতে পারলো তার সাতোরু মামাকে। ❝মানুষ চেনা ওতোটা সোজা না। আমরা একটা মানুষকে ততটুকুই চিনতে পারি যতটুকু সে আমাদের চিনাতে চায়..❞ কথাটা কোথায় যেন শুনেছিলাম। এখানেও তারই প্রতিফলন ঘটেছে। ‘Never judge a book by it's cover’. তাকাকোর কাছে যে মামা ছিল মূল্যহীন, স্রেফ মায়ের দিককার এক আত্মীয়, ধীরে ধীরে সেই মামাই তার জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠলো। সে বুঝতে পারলো দূর থেকে মানুষকে চেনা সত্যিই কতটা কষ্টকর। আর তাই সেই পুরনো দোকানের দিনগুলি তাকাকোর জীবনের সর্বোত্তম সময়। তারা টার্নিং পয়েন্ট। তাকাকো, তার একাকিত্ব, তার নিজেকে নতুন করে জানা, দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো সর্বোপরি এক একাকি ও হতাশাগ্রস্ত মেয়ের জীবন ফিরে পাওয়ার এক খন্ডচিত্র নিয়ে ‘মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি’। ?️পাঠপ্রতিক্রিয়া— বইটি পড়ার পর একটা শব্দই মনে এলো শুধু ‘ওভাররেটেড’। এটা বলতেই হলো। ব্ল্যাক এডিশনের কারনেই বইটা এতোটা হাইপে উঠেছে বলেই মনে হচ্ছে। নয়তো খুব একটা আলোচনায় আসার কথা না। আমি বলছি না বইটা খারাপ। কিন্তু খুবই সাধারণ ঘটনাবলী নিয়েই লিখা। আর এই শব্দটা বলার পেছনে আরো একটি কারন আছে। বইটি মূলত ব্ল্যাক এডিশনের কারণেই এতোটা পাঠক সমাদৃত হয়েছে। নয়তো বইয়ের ভেতরকার বিষয় নিয়ে এ পর্যন্ত আমি খুব বেশি পোস্ট দেখিনি। এমনকি পড়ার পর রিভিউও খুম কম মানুষই দিয়েছে। বইটি পড়ে শেষ করলাম। এই মুহুর্তে আমারও খুব ইচ্ছে করছে বইয়ের রাজ্যে যেতে। যেখানে হাত বাড়ালেই এতো এতো বই। ইচ্ছে করলেই তাদের ছুঁয়ে দেখা যায়, অনুভব করা যায়। একজন বইপ্রেমীর কাছে যা একদম স্বপ্নের মতন। তাকাকোর মতো জিমবাচোর সেই পুরনো দোকানগুলো, ক্যাফে, দু'তলার ঘরটি এমনকি তার সাতোরু মামাকেও আমার ভালো লেগে গেছে। তবে শেষটুকু আশানুরূপ হলো না। কিছু একটা মিসিং মনে হচ্ছিল। তাকাকো ও সাতোরু এই দুটো চরিত্র ভালো লেগেছে আমার। তাকাকোর দৃঢ়তা ও তার মামার স্নেহসুলভ কথোপকথন এবং সবশেষে তার মোমোকো মামিকে নতুন করে জানা। বইটিতে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনেরই দুটো দিক উঠে এসেছে। সেখানে একটা কথা আছে, ❝মানুষের জীবনমাত্রই দ্বিমুখী।❞ সত্যিই তাই! প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব একটা খোলস রয়েছে। যে খোলসটি সে কারো সামনে উন্মুক্ত করতে চায় না। এমনকি কাছাকাছি না আসলে সে খোলসের সন্ধানও পায় না খুব বেশি মানুষ। দূর থেকে আমরা মানুষের একটা খারাপ গুণ দেখেই তাকে নিয়ে নিজেদের মনোভাব তৈরি করে ফেলি। কিন্তু ভাবি না, প্রতিটি মানুষেরই ভালো ও খারাপ উভয় দিকই রয়েছে। আমরা যেটুকু জানতে চাই শুধু সেটুকুই জানতে পারি। আমার মনে হলো বইটিতে কিছু মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারও রয়েছে। যেসব ব্যাপারগুলো কেবলমাত্র পড়তে গিয়েই অনুভব করা যায়। সবমিলিয়ে মোটামুটি লেগেছে আমার। ?️অনুবাদ— বইটি সত্যিই অনুবাদকৃত বই ছিল? বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। সামান্য সময়ের জন্যেও মনে হয়নি আমি কোনো অনুবাদকের বই পড়ছি। এতোটা সাবলীল ও প্রাঞ্জল শব্দচয়ন ছিল! বানানের ভুলও পাইনি আমি। ও হ্যাঁ, যেটা না বললেই নয়। গ্রিন এডিশনের এ বইটি পড়তে চোখে কোনোরকম চাপসৃষ্টি হয়নি। এক বসায় পড়ে ফেলেছি আমি। তাই অনুবাদ ও এডিশন নিয়ে চিন্তিত হলে নির্দ্বিধায় নিতে পারেন বইটি। বইয়ের বাইন্ডিংও পোক্ত ছিল। পরিশেষে, খুব বেশি প্রত্যাশা নিয়ে বইটি পড়া ঠিক হবে না। তাহলে হতাশ হবেন এটুকু বলাই যায়। জিরো এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়া শুরু করুন। ভালো লাগবে আশা করি! বই- মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি লেখক- সাতোশি ইয়াগিসাওয়া রূপান্তর- সালমান হক জনরা- অনুবাদ উপন্যাস (সামাজিকও মনে হয়েছে কিছুটা) প্রকাশনী- অবসর প্রকাশনা সংস্থা পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৬০ মুদ্রিত মূল্য- ৩০০ টাকা
Was this review helpful to you?
or
#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ বইয়ের নাম: মারিসাকি বইঘরের দিনগুলি লেখক: সাতোশি ইয়াগিসাওয়া অনুবাদ: সালমান হক প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনা সংস্থা নাম শুনলেই বুঝা যায় গল্পটা বইয়ের। একটু ভালোভাবে বলতে গেলে তাকাকো নামের এক সদ্য হৃদয়ভাঙ্গা মেয়ের বইকে আকড়ে ধরে আবার নিজেকে ফিরে পাবার গল্প। কিন্তু বইটা কি আসলেই এতোটুকুর? গল্পটা কি একইসাথে সাতোরু কিংবা মোমোকোর নয়? আমি যদি বলি গল্পটা আমাদেরও! ভালোবেসে কষ্ট পায়নি এমন কেউ কি আছে? সেই কষ্ট, সেই ভালোবাসার গল্প মারিসাকির বইঘরের দিনগুলি। যে গল্পগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের বইপোকাদের প্রিয় জিনিস বই। পাঠ-অভিজ্ঞতা খুব একটা আশাবাদী ছিলাম না বইটা নিয়ে। জীবনের বড় একটা অংশ কাটিয়ে আসার পর জীবনবোধ জাতীয় বই এখন আর আমাকে টানবে না, এমনই ধারণা ছিল আমার। অথচ একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে বইটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটানা পড়ে গিয়েছি। জাপানিজ লেখকদের জীবনবোধ, তাদের আবেগ, তাদের জীবন যাপনের ধরণ সবকিছুই আমাকে বড্ড বেশী টানে। এর আগে থ্রিলারের মাঝে জাপানিজ লেখকদের এই ব্যাপারগুলো অল্পবিস্তর পড়ার সুযোগ হয়েছিলো। এবার পুরোদস্তুর একটা মানবিক আবেগের বই পড়ার সুযোগ হলো। তাকাকোর ধোঁকা খাওয়ার পর থেকে মারিসাকির বইঘরের দোকানে যাওয়া পর্যন্ত তার দুঃসহ যন্ত্রণা যেভাবে লেখক ফুঁটিয়েছেন তা অনুভব করেছি পুরোপুরি। এরপর প্রতিটা ছোটোখাটো কর্মকান্ড দিয়ে যেভাবে সে একটু একটু করে উঠে দাঁড়ায় সেটা পড়ার সময়েও বেশ ভালো লেগেছে। একই সময়ে সাতোরু মামার সাথে তার সম্পর্ক আর মামার নিজের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির সম্পর্কে জানতে পারাটাও ভীষন উপভোগ করেছি। ভাগ্নীর প্রতি মামার আবেগ, তার কষ্টের কথা শুনে রেগে উঠা প্রতিটা মুহুর্তই বড্ড আপন মনে হচ্ছিলো। আর এই সবকিছুর সাথে ছিলো বই। হাজার হাজার বই। সেইসব বই থেকে উঠে এসেছে কিছু ছোট ছোট উদ্বৃতিসমূহ। লেখক এতো সুন্দরভাবে বইয়ের সেই জায়গা আর দোকানের কথা লিখেছেন মনে হচ্ছিলো আমি যেনো কল্পনায় সেই স্বর্গরাজ্যে পৌছে গিয়েছি। ভীষন ভালো লেগেছে বই সংক্রান্ত অল্পবিস্তর বর্ণনাগুলো। প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় পর্বে গল্পে আসে নতুন মোড়। ফিরে আসে মোমোকো। তার কর্মকান্ড দেখে তার মনের অবস্থা সম্পর্কে বোঝা যায় না। এই পর্বে মোমোকোর সাথে তাকাকোর পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার বর্ণনাটুকু সবচেয়ে বেশী ভালো লেগেছে। এবারও সেই একই অবস্থা। মনে হচ্ছিলো তাকাকো আর মোমোকোর সাথে আমিও বুঝি পৌছে গিয়েছি নয়নাভিরাম সেই পাহাড়ের চূড়ায়। একই সাথে মোমোকোর জীবনের সব ঘটনা জানতে পেরে মনও খারাপ হয়েছে। একটা মানুষ জীবনের বড় একটা অংশ ভয়ানক সব কষ্টের মাঝে কাটানোর পরেও কি সুন্দর হাসিমুখে থাকতে পারে! গল্পের বিভিন্ন স্থানের চমৎকার বর্ণনার পিছনে লেখক কিন্তু খুব বেশী শব্দ খরচ করেননি। একটানা ঘটনাপ্রবাহের ফাঁকে ফাঁকে দিয়েছেন অল্পস্বল্প বর্ণনা। আর ততটুকুই যথেষ্ট ছিলো সেগুলো কল্পনা করে নেয়ার জন্য। গল্পের সমাপ্তিটা সুন্দর এবং ছিমছাম। ভয় হচ্ছিলো শেষে আবার কোনো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে কি না! তেমনটা ঘটলে হয়তো মনে দাগ কেটে যেতো বেশী, কিন্তু এই বইটার ক্ষেত্রে তেমন কিছু না হওয়াতেই বরং আমি খুশী। তাকাকো, সাতোরু আর মোমোকোর পাশাপাশি সাবু আর ক্যাফের মালিক এই দুই চরিত্রকেও বেশ ভালো লেগেছে। তাদের কর্মকান্ড মুখে হাসি ফুঁটিয়েছে। সব মিলিয়ে বেশ ভালো একটা সময় কেটেছে বইটির সাথে। যারা বড় লেখা পছন্দ করেন না, তারা রিভিউর বাকী অংশটুকু চাইলে এড়িয়ে যেতে পারেন। লিখনশৈলী বইটা পড়া শুরু করতেই মুগ্ধতা আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছিলো। কি যে চমৎকার লিখনশৈলী লেখকের। চমৎকার সব উপমার ব্যবহার আর দারুণ গদ্যরস টানা পড়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে পাঠককে। কিছু উদাহরণ দেয়ার লোভ সামলাতে পারছি না, "আমি কখনোই ওর প্রথম পছন্দ ছিলাম না। আমার সাথে স্রেফ ফাজলামো করেছে ও। বিষয়টা এতোদিনেও বুঝলাম না কেন? আমি কি এতোই বোকা? নাকী ওকে বেশী ভালোবেসে ফেলেছিলাম?" প্রথমবার প্রেমে পড়ার সময় বোকা বনে যায় না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। সেই সময়ে কতো অদ্ভুত পাগলামি যে মানুষ করে তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বিলক্ষণ বুঝতে পারি! আর সেইসব পাগলামি আর বোকামির কারনেই কখনো কখনো আমরা ভুল মানুষটার প্রতি আমাদের সব আবেগ সঁপে দেই। চোখের সামনে করা তার ভুলগুলোকে দেখেও দেখি না, বুঝেও অবুঝের ভান করে থাকি। জগতের সকল বিষয়ে প্রখর বুদ্ধিমত্তা দেখালেও, সেই মানুষটার ব্যাপারে বোকা বনে যাই। যেই বোকামির অপর নাম ভালোবাসা। (মাত্র দুটো লাইনেই এই কথাগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন লেখক) "এরকম বিষাদের যে অস্তিত্ব থাকতে পারে, সেই ব্যাপারে কোনো ধারণা ছিল না আমার। চারপাশে থকথক করতে থাকে সেই বিষাদ। যেন হাত বাড়ালেই ধরতে পারব।" আর সেই বোকামি থেকেই আসে কষ্ট। জগৎ সংসার তুচ্ছ করে দেয়ার মতো সীমাহীন কষ্ট। সে সময়টায় আমাদের আশেপাশে থাকা সবকিছুতে আমরা কষ্ট খুঁজে পাই। একটা গানে কলিতে, কোনো মুভির দৃশ্যে, চলার পথের কোনো দোকান দেখে, একটা বইয়ের গল্পের মাঝে কিংবা এমনকি নিজের ঘরে শুয়ে বসেও অনুভব করি সীমাহীন কষ্ট। মনে হয় যেনো কষ্টের একটা চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো অস্তিত্বকে। (দীর্ঘ একটা কষ্টের সময়কালকে কি অল্প কথাতেই না বুঝিয়ে দিলেন লেখক) "আমরা আসলে কী খুঁজছি, তা বুঝতে লম্বা সময় লাগে। হয়তো জীবনের পুরোটাই কেটে যায় সেই অজানার খোঁজে।" উপরের লেখাটুকু বইয়ের আমার সবচেয়ে প্রিয় বাক্য। কারন আমি জানি এই অনুভূতি। জীবনের বড় একটা অংশ আমি কাটিয়ে ফেলেছি এবং এখনো আমি জানি না আমার সুখ কিসে! আমি সবকিছুর মাঝ থেকে সুখ খুঁজে নিতে জানি, তবুও আমি জানি কোনো একটা জায়গায় কোথায় কিছু একটা ভেঙ্গেচুরে পড়ে আছে। নিজের প্রবল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যেটা মাঝেমাঝে ভেতর থেকে উঠে আসতে চায়। আমি চাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করি আমার সবকিছু দিয়ে। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ০৮/১০ (আমার মতো টানা যারা থ্রিলার পড়েন তাদের জন্য দারুণ এক রিফ্রেশমেন্ট হতে পারে এই ধরণের বইগুলো) অনুবাদ: এই ধরণের মানবিক আবেগের বইগুলোর জন্য আসলে সালমান হক অতুলনীয় আমার মতে। উনি মূল বইয়ের আবেগের অংশটুকু অনেক ভালোভাবে তুলে আনতে পারেন। এই বইটির ইংরেজিটুকু পড়ে দেখেছি। একদম সাদামাটা সহজবোধ্য ইংরেজি। তবুও সেখানে নিজস্বতার ছাপ রেখেছেন সালমান ভাই। বিশেষ করে কিছু বইয়ের নাম এবং সেই বইগুলো থেকে দেয়া উদ্বৃতিগুলো নিজের মতো করে রূপান্তর করেছেন সুন্দরভাবে। প্রোডাকশন: Let's talk about the Elephant in the Room ?! এই বইটা শুরু থেকেই এর কন্টেন্টের চেয়ে প্রোডাকশন নিয়ে বেশী আলোচনায় ছিলো। ব্ল্যাক এডিশন, রয়্যাল সাইজ, লিমিটেড কালেক্টরস আইটেম; এইসব কিছুই বেশ আলোচনায় ছিল। আমার নিজের মতামত হলো: ব্ল্যাক এডিশন খুব একটা ভালো লাগেনি সত্যি বলতে। এমন নয় যে পড়তে অসুবিধা হয়েছিলো। কিন্তু কালো কাগজে সাদা হরফের লেখা পড়ার অনভ্যস্ততার কারনেই কি না, পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিনি। এরচেয়ে আমি বরং চিরন্তন অফ হোয়াইট বা ক্রিম কালারের পেইজেই বই পড়তে আগ্রহী। এছাড়া বইয়ের দাম নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হয়েছে সেটা শুধু এতোটুকু বলি, আমার কাছেও দামটা বেশীই মনে হয়েছে। খুব সম্ভবত ৩/৪টা বানান ভুল চোখে পড়েছে, এছাড়া বিয়ে বিক্রি হয়ে যাওয়ার মতো সম্পাদনা জনিত ভুল ছিলো একটা। দামী কালেক্টরস আইটেম হিসাবে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম বিষয়েও আরো একটু নজর দেয়া উচিত ছিলো। বাদবাকী প্রোডাকশন অবশ্য খুবই চমৎকার। ? প্রচ্ছদ: সানজিদা স্বর্ণা (মূল বইয়ের অনুসারে) ? পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮ ? মূদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা