User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
দশকের হিসাবে চঞ্চল শাহরিয়ার আশি-র। টানা দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে লিখছেন তিনি। সাহিত্যের নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি নিজেকে। গল্প যেমন লিখেছেন, তেমনি সমান দতায় লিখেছেন উপন্যাস, কবিতা। এগুলোর পাশাপাশি গল্পেও আলাদা জায়গা তৈরি করে নিতে সমর্থ হয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত গল্পবই ৩টি- প্রিয়জন, আমার শ্রাবণ আসে অনেক দেরিতে, ও বান্ধবী প্রিয় বান্ধবী। সর্বশেষ প্রকাশিত গল্পবই ও বান্ধবী প্রিয় বান্ধবী। ২০১১ সালে প্রকাশিত এ বইয়ের অবয়ব ১৫টি গল্পের সম্মিলনে গঠিত। গল্পগুলো হালকাচালে, সহজবোধ্য করে লেখা। তারুণ্যের বাঁধভাঙা জোয়ার, উচ্ছ্বাস, খুনসুটি কিংবা পাওয়া না পাওয়া, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের খণ্ডচিত্র ফুটে উঠেছে বইটির পরতে পরতে। সবকিছু ছাপিয়ে প্রেমটাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। অনেক গল্পই বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক। বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সহপাঠীদের মধ্যে সহজ একটা বন্ধুত্ব থাকে। এই বন্ধুত্বই বাঁক বদল করে প্রেমে রূপান্তরিত হয়। এ প্রেমের আপাত কোনো গভীরতা নেই। গভীর কোনো দর্শন কিংবা বড় কোনো ত্যাগও নেই। লেখক চঞ্চল শাহরিয়ার জীবনকে দেখেন চশমার বাইরে থেকে; তাই তো দভাবেই তিনি চিত্রিত করতে পেরেছেন এ সময়ের প্রেম, নানামাত্রিক সম্পর্কের স্বরূপকে। কোনো কোনো গল্পে শৈল্পিক দতায় কামও উঠেছে এসেছে। প্রেম-কাম-ঈর্ষা-বঞ্চনা-হাহাকারের নান্দনিক আবহে পাঠক খুব সহজেই একাত্ম হতে পারে- চোখের সামনে অমলিন ছবির মতো ভেসে ওঠে বর্তমান সমাজবাস্তবতা। তবে চঞ্চলের গল্প পড়তে গিয়ে পাঠকের হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনাও পদে পদে! তাঁর প্রতিটি গল্পই যেন আচানক শেষ হয়ে যায়। যথার্থ কোনো ইঙ্গিত কিংবা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় গিয়ে গল্পকে ছেড়ে দেয়ার পপাতী নন তিনি। রবীন্দ্রনাথের দেয়া গল্পের সংজ্ঞায়ও বোধহয় তার গল্প পড়ে না- শেষ হয়েও হইলো না শেষ-এর আরো আগেই গল্পকে শেষ করে দেন! সেটা বাস্তবতার খাতিরেই হোক কিংবা নিজস্ব দর্শনের আলোকে। আমাদের এ প্রজন্ম নানা কারণেই বিভ্রান্ত। প্রেমের ক্ষেত্রে তো আরো বেশি। প্রেমের বিভ্রান্তিটুকুই যেন লেখক ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। ২/১টি গল্পের কথা উল্লেখ করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। একটি গল্পের পুরোটা জুড়ে নায়ক সুজনের সাথে দুই তরুণীর সম্পর্কের ইঙ্গিত থাকলেও গল্প শেষে দেখা যায় ‘প্রকৃত নায়িকা’ আরেকজন। সোনাবউ নামক গল্পটির শুরুতে দেখা পাওয়া যায় এক তরুণীর- মিতু। সে নায়ককে বলে, ‘...তোর বউ হিসেবে আমি নেহাত মন্দ হবো না।’ গল্প এগিয়ে গেলে এসে যায় কোনো এক নাফিজার কথা। মিতুর ভাষ্য অনুযায়ী যে নাকি সুজনের প্রেমিকা। নাফিজার খবরাখবর জানতে চায় মিতু। গল্পের শেষে আরেক মোচড়! নায়কের জবানীতেই শোনা যাক- ‘এই মুহূর্তে মিতু বাসার ভেতর থেকে যাকে আমার সামনে নিয়ে এলো, তাকে দেখে আমি থতমত খেয়ে যাই। এ তো আমার স্বপ্নের মানুষ আফরিন। তাকে দেখামাত্র আমার বুকের কাঁপন শুরু হয়ে যায়। কোথাও একটানা বৃষ্টির শব্দ শুনি। মনে মনে বলি, সোনাবউ সোনাবউ।’ মিতু দিয়ে শুরু, তারপর নাফিজা, সর্বশেষ আফরিন। কোথায় যাচ্ছে আমাদের প্রেম-ভালোবাসার ঝুলে থাকা সুতাটি? আফরিনই কি শেষ নাকি তারও পরে ‘সময়ের প্রয়োজনে’ আরো কারো আবির্ভাব ঘটবে? পরকীয়া প্রেম এবং এর স্বরূপ চমৎকারভাবে উঠে এসেছে ভূত-পেতনির প্রেম আলাপ গল্পে। প্রায় সব পরকীয়া প্রেমের সর্বশেষ গন্তব্য শরীর। এখানে মন থাকলেও শরীরটাই মুখ্য। পরকীয়ায় অসম প্রেমের সমাবেশও কম ঘটে না। এ গল্পটি সেই দৃষ্টান্তই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। মায়ায় জড়ানো ফুল-এর শিমু আপার সাথে অসম প্রেম নায়কের। নায়কের বর্তমান-ভবিষ্যৎ সবকিছু নিয়েই ভাবেন শিমু আপা। তাই বলে উষ্ণ সান্নিধ্য দিতেও ভুল করেন না। প্রয়োজনে বুকে টেনে নেন, আবার ঠোঁটে দীর্ঘ চুমু দিতেও তিনি অনাড়ষ্ট। বইটির প্রতিটি গল্পই চমৎকার এবং জীবনঘনিষ্ঠ। একজন যথার্থ শিল্পীই পারেন তার সমকালকে সঠিকভাবে চিত্রিত করতে। চিত্রণে চঞ্চল শাহরিয়ার সফল- বলার অপো রাখে না। বইটি এককথায় সুখপাঠ্য- প্রাঞ্জল ভাষাগুণে, চরিত্র নির্মাণের অনায়াস দতায় বইটি পাঠককে মোহাবিষ্ট করে রাখবে। নামকরণে লেখক আরেকটু সতর্ক থাকতে পারতেন। যেমন পারতেন কিছু শব্দ প্রয়োগ এবং বানানের ক্ষেত্রেও। ও বান্ধবী প্রিয় বান্ধবী চঞ্চল শাহরিয়ার প্রকাশক : সিঁড়ি প্রকাশন প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১১ প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা দাম : ১০০ টাকা