User login

Sing In with your email

Email Address
Password
Forgot Password?

Not Account Yet? Create Your Free Account

Send

Recipients:
Message:

Share to your friends

Copy link:

    Our Price:

    Regular Price:

    Shipping:Tk. 50

    • Size:
    • Color:
    QTY:

    প্রিয় ,

    সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
    মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?

    Please Login to Continue!

    Our User Product Reviews

    Share your query and ideas with us!

    Customer Reviews

      By Shafique Hasan

      15 May 2014 12:54 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      কবি জাহীদ ইকবালের নতুন উপন্যাস 'আমাদের ফ্ল্যাটে পরীরা ছিলো'। একজন কবি যখন গদ্য লেখেন পাঠককে একটু নড়েচড়ে বসতে হয় বৈকি। কারণ ‘সাধারণের’ গদ্যের সাথে কবির গদ্য খুব একটা মেলে না। উভয় পরে মধ্যে বিস্তর ফারাক। কবিতার মধ্যে কবি দেন বিন্দুর মাঝে সিন্ধুর আস্বাদন। অন্যদিকে গদ্য একটু বেশিই বর্ণনামূলক, এখানে কথা বলার সুযোগ অনেক বেশি। এই ‘বাচালতা’র জায়গায় এসে কবির কী অবস্থা হয়? কেমন করে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন? কোন শৈলীতে উপস্থাপন করেন নিজের সৃষ্টিকর্ম! যে বনসাইয়ের আরাধনায় তিনি নিমগ্ন থাকেন, সেই বনসাই কি শেষ পর্যন্ত ‘বনসাই’-ই থাকে, নাকি বৃহৎ বনে পরিণত হয়! কবির সেই গদ্যটা যদি রচিত হয় সৃজনশীল মাধ্যমে, তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই! পাঠককে সচেতনভাবেই পাঠ-প্রস্তুতি নিতে হয়। নব্বই অন্যতম শক্তিশালী তরুণ কবি জাহীদ ইকবালকে নতুন করে পাঠকের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এবং লিটল ম্যাগাজিনে প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিভার সার রেখে চলেছেন তিনি। সাহিত্যাঙ্গনে তার বিচরণ কবিতা দিয়ে শুরু। বর্তমানেও কবিতায় নিমজ্জিত। তবে গদ্যের সাথে তার সখ্য নতুন নয়। এর আগে জাহীদ ইকবালের ৩টি উপন্যাস (প্রেমজুয়াড়ী- ২০০২, বেদনায় নীল বৃষ্টি- ২০০৪, নভেলপুরুষ- ২০০৫) প্রকাশিত হয়েছে। এটা তাঁর ৪র্থ উপন্যাস। উপন্যাসের পাশাপাশি গল্পও লিখেছেন তিনি, যদিও গল্পগুলো বই আকারে প্রকাশিত হয়নি। একাধিক গদ্যগ্রন্থ প্রকাশিত হলেও কবি হিসেবেই খ্যাত জাহীদ ইকবাল। নব্বই থেকে প্রথম দশক, প্রথম থেকে চলমান দ্বিতীয় দশক- সব দশকেই তিনি সমান সচল এবং সক্রিয়। উত্তরোত্তর নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় রত শিল্পী। ৪ ফর্মার উপন্যাস আমাদের ফ্যাটে পরীরা ছিলো। আমাদের ফ্যাটে পরীরা ছিলো- ছিলো, মানে এখন আর নেই। কেন নেই, কোথায় গেছে তারা, পরিরা? পরিরা আসে, এসে আবার উড়ে যায়। হয়তো উড়ে যাওয়ার জন্যই আসে। উড়ে যাওয়াই পরিদের সহজাত বৈশিষ্ট্য। উড়ে যাওয়ার জন্যই পরিরা জন্মায়। ওড়াওড়ির আগ পর্যন্ত তারা সচেতন বা অবচেতনভাবে পুরুষ-মানবদের আবিষ্ট করে রাখে। সেই আবেশে পুরুষরা পরিরা ভিন্ন একটি মহিমা দাঁড় করায়। বোকা পুরুষ স্বপ্ন দেখে, ভবিষ্যৎ সাজায় মনে মনে। একসময় ঠিকই সেই স্বপ্নবাসর ধূলিসাৎ হয়ে যায়। অবিনাশী প্রেমাগুনে এক সহজ-সরল কিশোরের পতঙ্গ-সদৃশ পুড়ে মরাই এ উপন্যাসের মূল কাহিনী। ঢাকা শহরের একটি ফ্যাটের বাড়িঅলার একমাত্র ছেলে ছোটন। ভাড়াটিয়া হিসেবে তাদের ফ্যাটে অনেকেই আসে, প্রকৃতির নিয়মে চলেও যায়। ভাড়াটিয়ার সাথে আসে তার পরিবার। সেই পরিবারে থাকে এক বা একাধিক মেয়ে। এই মেয়েরাই ছোটনের ভাবনাজগৎ এবং নিজস্ব জগতের নিয়ন্তা হয়ে দাঁড়ায়। ভাড়াটিয়াদের বৌ এবং মেয়েদের সাথে সম্পর্কে জড়ায় ছোটন। এ সম্পর্কের নাম কি প্রেম, এটাকে প্রেম বলে? দেখা-সাাতের মাধ্যমেই কি প্রেম সৃজিত হয়? প্রেম কী, কেন আসে, কোত্থেকেই বা আসে, কেন ধরা দেয়? কেন মানুষের জীবনকে কষ্টদায়ক কিংবা আনন্দমুখর করে তোলে? এই প্রেম কীভাবে একজনকে ফিরিয়ে আনতে পারে মৃত্যুর মুখ থেকে, আবার খুব সহজেই ঠেলে দিতে পারে অন্ধকার গহ্বরে। প্রেম! অমীমাংসিত এক রহস্য। এ রহস্যের কূলকিনার নেই, শেষও নেই। এ উপন্যাসের প্রথম ‘পরি’ সীমাপু। এই সীমাপুই ছোটনের কিশোর বয়সের প্রথম ভালোলাগা মানবী। সীমাপুর সাথে তার বয়সের পার্থক্য প্রায় ৪ বছর। সীমাপু প্রতিশ্র“তি দেয় ছোটনকে সে ‘জোড়া কবুতর’ দেখাবে। শেষ পর্যন্ত জোড়া কবুতর দূরে থাক, একটি কবুতরও দেখার সুযোগ পায় না ছোটন। কিন্তু সে কোনো এক বৃষ্টিভেজা দিনে আবিষ্কার করে ফেলেছে সীমাপুর বুকভর্তি কালো তিল। চারতলার ছাদে থৈথৈ বৃষ্টিতে উদ্ভিন্নযৌবনা সীমাপু পরোভাবে উদ্দীপ্ত করে তোলে ছোটনকে। যৌবনের আহ্বান পায়ে দলতে পারে এমন স্বাভাবিক পুরুষ ক’জন আছে! ছোটনও পারে না। সীমাপুর সাথে দিনে দিনে নানাভাবে ঘনিষ্ঠ হয় সে। সীমাপুর কাছে, সীমাপুর যৌবনের মায়াবী হাতছানির কাছে স্থির থাকতে পারে না ছোটন। তার যৌনচেতনা পাক খায় জটিল আবর্তে; ভাবনাজগত, দৈনন্দিন জীবনযাপন সীমাপুময় হয়ে ওঠে- দিন গড়িয়ে রাত্রি আসে। সকাল হয়। জোড়া কবুতর আর দেখা হয় না। সারাণ চোখের সামনে সীমাপুর গোলাপি ঠোঁট, কালো অন্তর্বাস, সরু কোমর, ভারী নিতম্ব ভেসে ওঠে। কিচ্ছু ভালো লাগে না। না পড়ার টেবিল, না কোনো টিভি সিরিয়াল। কখনো কখনো ইচ্ছে করে চারতলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ি সীমাপুর সামনে গিয়ে। সে দেখুক, বুঝুক আমার এই বুকের ভেতরের যন্ত্রণাগুলো কতোটা দগদগে, যন্ত্রণাময়। (পৃ. ১৩) শুধু সীমাপু কেন, কোনো মেয়েই ছোটনের যন্ত্রণার তলদেশটুকু ছুঁয়ে দেখার প্রয়োজন বোধ করে না। প্রয়োজনে আসে, আর ছোটনকে রক্তাক্ত করে দিয়ে চলে যায়। তবে এক সীমাপুর মতো এতোটা তবিত তাকে আর কেউ করে না। সীমাপুই তার প্রথম প্রেম, প্রথম ভালোলাগা। সীমাপুরা ভাড়া থাকা অবস্থায় নিচতলায় নতুন ভাড়াটিয়া আসে। তাদের মেয়ে রুবা। নৃত্য শেখে। এই রুবার সাহচর্যেও আসে ছোটন। কিন্তু সীমাপু ব্যাপারটা মেনে নিতে পারে না- ছোটনের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করে- নাচনেওয়ালী রুবার সাথে এতো মাখামাখি কীসের! ছোটনের পৃথিবীটা মোটামুটি সংকীর্ণ। সে ভীষণ রকম ক্রিকেটপ্রিয়, পছন্দের দল হেরে গেলে কান্নাকাটি করে। টিভি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে ফেলে। ক্রিকেটের বিপরীতে তার সব ভালোবাসা সীমাপুর প্রতি। সীমাপু তাকে প্রশ্রয় দেয়, ভালোবাসার লোভ দেখায়, উষ্ণ সাহচর্য দেয়; তবুও কেন যেন ছোটন সীমাপুকে ঠিক পায় না। স্বনির্মিত জগতে সে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে- আমি সন্ধ্যার অন্ধকারে আকাশের দিকে তাকাই। জমিনের দিকে তাকাই। শহর দেখি। শহরের বিচিত্র মানুষ দেখি। এতো মানুষের ভীড়ে নিজেকে কেনো যেন ভীষণ একা একা লাগে। বাঁচতে ইচ্ছে করে না। ভীষণ মরে যেতে ইচ্ছে করে। কেউ আমাকে যন্ত্রণা দিয়ে মেরে ফেলতে চাইছে। কেউ আবার বাঁচাতে চাইছে। কেনো এই রহস্যময়তা? কেনো? কেনো! (পৃ. ১৭) সীমাপুরা একসময় চলে যায় বাসা ছেড়ে। সীমা চলে যাওয়ার পর ছোটন ইঁদুর মারার বিষ পকেটে নিয়ে ঘুরেছে অনেকদিন। এক পর্যায়ে খেয়েও ফেলে বিষটা। কিন্তু মরে না। আবারও সে সীমার জন্য অপো করে। প্রায় দেড় বছর পর সীমার ফোন পায় সে। তদ্দিনে সীমা বিয়ে করে পুরোদস্তুর সংসারি। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সুখের সংসার। কিন্তু ছোটনকে সে ভোলে না। সময়ে সময়ে প্রেম জেগে উঠলে ছোটনের সাথে ফোনালাপ করে। কখনোবা দেখাও হয়। যদিও নিজের বিয়ে এবং সন্তানের মা হওয়াটা সে লুকিয়ে রাখে অনেকদিন। সীমার প্রেমে ছোটন প্রলুব্ধ হয় ঠিকই, কিন্তু সে সামনে যেমন বাড়তে পারে না, তেমনি পারে না পেছাতেও। কঠিন এক গোলকধাঁধায় আবর্তিত হতে থাকে তার জীবন। সীমা নামক ভাইরাস আষ্টেপৃষ্ঠে ঝাপটে রাখে তাকে। তার নিয়তিতে নিজের জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে সীমাই রেখে চলে বড় ভূমিকা। সীমা-রুবা ঘেরাটোপ থেকে একটু বৈচিত্র্যের স্বাদ পায় ছোটন। রুবারা চলে যায়। রুবার স্থলে আবির্ভূত হয় ঝুমা। ঝুমা দেখতে কালো। এই ‘কালো’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছোটন তাকে নানা সময় বিব্রত করে। ছোটন যে অস্বাভাবিক মোটা, বেঢপ ফিগারের- এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলে না ঝুমা। দুপওে ঝগড়াঝাটি এবং খুঁনসুটির মধ্যে ঝুমাদের চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। ঝুমারা চলে গেলে আসে মিঠুদা-সোমা বৌদি দম্পত্তি। নতুন করে সোমা বৌদির প্রেমে পড়ে ছোটন। বিয়ে করার প্রতিশ্র“তি দেয় বৌদিকে। যে প্রতিশ্র“তি সে সীমাকেও দিয়েছিলো! সোমা বৌদি ছোটনের জীবনে বেশ বড় একটা পরিবর্তন আনে। সোমা বৌদির প্রেম এবং কামে দক্ষ মাঝি হয়ে ওঠে ছোটন। মিঠুদা স্বামী হিসেবে ব্যর্থ। সোমার উত্তাল যৌবননদীর ব্যর্থ মাঝি সে। সোমা কামাগুনে ছটফট করতে করতে একসময় ছোটনকে প্রলোভন দেখিয়ে কব্জা করে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে চলতে থাকে কামলীলা। সোমার প্রেম এবং শরীরী আকর্ষণও ছোটনকে সীমা-বিমুখী করতে পারে না। এমনকি সোমা বৌদির কঠিন বাধা এবং শর্তের মুখেও। ছোটন সীমাকে যেমন ছাড়তে পারে না, তেমনি পারে না সোমা বৌদিকেও ছাড়তে। পরকীয়া সম্পর্কটি চিরকালই মধুর এবং আকর্ষণীয়। এ সম্পর্কে কোনো দায় নেই, দায়বদ্ধতা নেই। সোমা বৌদি শর্ত দেন, সীমাকে ভুলে যেতে হবে। নইলে তার সাথে সম্পর্ক থাকবে না। কিন্তু ছোটন পারে না সীমার নাগপাশ ভেদ করতে। যদিও তদ্দিনে ছোটন চিনে ফেলেছে সীমার প্রকৃত চেহারা। এই সীমা কারণে অকারণে মিথ্যাচার করে চলে ছোটনের সাথে। স্বামী জীবিত থাকলেও মৃত বলে পরিচয় দেয়। নিজের সন্তানকে বলে ভাইয়ের সন্তান। ছোটনদের কাছাকাছি বাসায় থেকেও সে ঢাকার বাইরের জেলায় থাকার কথা বলে। সব জেনে-বুঝেও ছলনাময়ী সীমার প্রেমজালে ছোটন যেন আরো বেশি করে জড়িয়ে পড়ে। নানারকম পাগলামি করে নিজে যেমন জীবন-ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি ব্যতিব্যস্ত করে নিকটজনদের। পরপর দুইবার সে এসএসসিতে ফেল করে। অভিভাবকরা তাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন। কিন্তু যে ঘোর ছেয়ে আছে ছোটনকে, সে এই ঘোরের বাইরে আসতে পারে না। কতজনই তো বাসায় থেকেছে, আবার চলেও গেছে। কিন্তু চলে গেলেও তারা, সেই সব পরি, বারবার ফিরে আসে ছোটনের কাছে, তার মনের অলিন্দে। সবার জন্যই তার মনে আসন পাতা আছে...। ‘লোতলোতা’ এই কিশোর শেষ পর্যন্তই লোতলোতাই থেকে যায়। ময়মনসিংহের আঞ্চলিক শব্দ ‘লোতলোতা’ মানে বোকা। ছোটনের মতো লোতলোতা কিশোর বাংলাদেশে কম নেই। বয়ঃসন্ধিকালে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা অভাবে, অভিভাবকের অমনোযোগিতায় এরা খুব সহজেই পথ হারায়। হারাতে বাধ্য হয়। পরিবার যখন বুঝতে পারে তখন আর কিছুই করার থাকে না। তদ্দিনে এরা ধ্বংসের প্রান্তসীমায় পৌঁছে যায়। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে শরণ নেয় মাদকের। এদের অনুভূতি নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় মেতে ওঠে সীমাপু খেলুড়ে, সোমা বৌদির মতো যৌন-অতৃপ্ত নারীরা। মাঝখানে ছোটনদের জীবন অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের ঘেরাটোপে আবদ্ধ হতে থাকে। ভবিষ্যতের কোনো রূপরেখা থাকে না সেখানে। ছোটনের জীবন যে কোন শনির ফেরে পড়েছে তা পরিস্ফুট হয়ে ওঠে উপন্যাসের শেষাংশে এসে- দূরে কোথাও যেতে পারি না। রোড এ্যাকসিডেন্ট করে বিছানায় পড়ে থাকি। ভেবেছিলাম এবারই বোধহয় দূরে না অনেক দূরে- একেবারে নক্ষত্রের সাঁকোয় হেঁটে হেঁটে ওপারে চলে যাব। যাওয়া হয় না। যেতে পারি না। সুস্থ হওয়ার পরও বিছানা আমাকে ছাড়ে না। ধরে রাখে। আমিও টান টান বিছানায় পড়ে থাকি। রাতদিন আকাশপাতাল ভাবি। দিনের বেশির ভাগ সময় থাকি চিলেকোঠায়। বিকেলে ছাদে এসে দাঁড়াই। গভীর রাত পর্যন্ত থাকি। রাতের আকাশ নত্র দেখি। দেখতে দেখতে নিঃসঙ্গতা আর বিষণ্নতায় ভুগি। এই ছাদ আর চিলেকোঠায় সীমাপুর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এসব ছেড়ে আমি কোথাও যেতে পারি না। যাই না। নস্টালজিয়ায় ভুগতে ভুগতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেই। গলা ডুবিয়ে মদ খেতে শুরু করি। (পৃ. ৬৩) জাহীদ ইকবালের কাব্যময় ভাষা এ বইয়ের বড় সম্পদ। ‘অপোর করতল ছুঁয়ে রাত্রি বাড়ে’, ‘নক্ষত্রের সাঁকোয় হেঁটে হেঁটে ওপারে চলে যাব’ এরকম চমৎকার সব বাক্য উপহার দিয়েছেন তিনি। প্রাঞ্জল ভাষায় নিপাট গদ্যের পাড় বুনে গিয়েছেন ঔপন্যাসিক। হিউমার তথা রসগ্রাহী উপস্থাপনাও নজর কাড়ে। পড়তে গিয়ে পাঠককে হোঁচট তো খেতে হয়-ই না, উল্টো পাঠক একসময় আবিষ্কার করবে উপন্যাস শেষ! পড়া শেষ হওয়ার পরও পাঠক পাতা উল্টাতে চাইবেন, যেন আর কী রয়ে গেছে! কী রয়ে গেছে আরো? তারপর কী হলো সেই ভাগ্যাহত কিশোরের? কোনো পরির সাথে কি সে শেষ পর্যন্ত গাঁটছড়া বাঁধতে পেরেছে? অথবা বিয়েথা করে সংসারি হওয়া কি সম্ভব হয়েছে তার পক্ষে কোনো স্থির সমাধান লেখক দেন না। অনিশ্চিত এক ভাবনার দিকে ঠেলে দেন পাঠকদের। হয়তো পান্তরে তিনি এই মেসেজটাই দেন, জীবন অনিশ্চতায় ভরা। এখানে কখন কী হয়, বলা মুশকিল! ঔপন্যাসিক জাহীদ ইকবালকে ধন্যবাদ, তিনি বাস্তব একটি সমস্যার ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করেছেন। এধরনের বই লেখা হয়নি বললেই চলে। সাহিত্যিক শিা দেয়ার ব্রতে লেখেন না, কেউ লেখা থেকে শিা গ্রহণ করলে সেখানেই সাহিত্যের সার্থকতা, সাহিত্যিকের পূর্ণতা। আমাদের ফ্যাটে পরীরা ছিলো নামের উপন্যাসটি চটুল হতে পারে, জনপ্রিয় ধারার হালকা প্রেম এবং সুড়সুড়ি জাগানিয়া কামের হতে পারে কিন্তু এর প্রোপট, বয়নকৌশলের মুন্সিয়ানা অতুল। সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। বিষয় নির্বাচন যেমন অভিনব, তেমনি সমাজসচেতনতার পরিচায়কও বটে। আমাদের ফ্যাটে পরীরা ছিলো জাহীদ ইকবাল প্রকাশক : মুক্তচিন্তা প্রচ্ছদ : চারু পিন্টু প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১২ দাম : ১২০ টাকা

    •  

    Recently Viewed


    Great offers, Direct to your inbox and stay one step ahead.
    • You can pay using


    JOIN US

    icon Download App

    Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money. You can buy books online with a few clicks or a convenient phone call. With breathtaking discounts and offers you can buy anything from Bangla Upannash or English story books to academic, research or competitive exam books. Superfast cash on delivery service brings the products at your doorstep. Our customer support, return and replacement policies will surely add extra confidence in your online shopping experience. Happy Shopping with Rokomari.com!